হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল বুথ’ বসাচ্ছে আইআরজিসি, জাহাজপ্রতি ফি হতে পারে ২ মিলিয়ন ডলার

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ তেল পরিবহন পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ের জন্য আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে পার্লামেন্ট। ফলে হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজপ্রতি ফি হতে পারে ২ মিলিয়ন ডলার।
ইরানি পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফারস জানিয়েছে, একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির আইনি দল এটি চূড়ান্ত করবে। এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, "এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে ফি আদায় করতে হবে।" ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, "এটি একেবারেই স্বাভাবিক। অন্য করিডরগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো দেশের মধ্য দিয়ে পণ্য গেলে শুল্ক দিতে হয়। হরমুজ প্রণালিও একটি করিডর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। তাই জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলো আমাদের শুল্ক দেবে- এটাই স্বাভাবিক।"
তবে অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামো এখনও চূড়ান্ত না হলেও, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি 'টোল বুথ' ব্যবস্থা চালু করেছে। গত বুধবার জাহাজ চলাচল বিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট এই খবর প্রকাশ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আলায়েদ্দিন বোরৌজারদি গত রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পার্সি ভাষার স্যাটেলাইট চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পেরোতে কিছু জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নেওয়া হচ্ছে। বোরৌজারদি বলেন, "এখন যেহেতু যুদ্ধের একটা খরচ আছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এটা করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি নিতে হবে।"
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedeltalens.com

