সর্বশেষ

রাকসু ভবনে অতর্কিত হামলা: জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ নেতাদের ওপর সাবেক এক ছাত্রলীগ কর্মীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রাকসু ভবনে এই হামলার ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুস শাকিবসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার রাতে, যখন অস্ত্রের মুখে এক ছাত্রীকে প্রেমে রাজি করানোর চেষ্টার অভিযোগে মহসিন আলম নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ চলাকালে অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস প্রক্টর কার্যালয়ে যান এবং প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরদিন প্রক্টর কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে সেখানে আনাস উপস্থিত হন। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। রাকসু নেতৃত্বের দাবি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকা সত্ত্বেও প্রক্টর পুলিশকে না দিয়ে অভিযুক্ত আনাসকে প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেন। এর পরপরই আনাস ও তার সঙ্গীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাকসু কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলার পর অভিযুক্ত আনাস ও তার সহযোগীরা অবস্থান বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে রাকসু নেতৃত্ব, হল সংসদের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে অবরুদ্ধদের সেখান থেকে বের করার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও রাকসু নেতৃত্ব প্রক্টর ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেয় প্রশাসনকে। এ বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও প্রশাসন তাদের ছেড়ে দেয়, যার ফলশ্রুতিতেই কার্যালয়ে এই হামলার দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। তবে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতিতে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button