News

‘একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ভারী’ চিত্রকর্ম তৈরির কারণ জানালেন শিল্পী দীপ্ত দেবনাথ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে ৯ আগস্ট থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্তস্বদেশ’ শীর্ষক প্রদর্শনী শুরু হয়। চিত্রপ্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয় ‘একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ভারী’ চিত্রকর্ম। এতে ৭১ ও ২৪-কে বিতর্কিতভাবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে চিত্রকর্মটির শিল্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্ত দিপন দেবনাথ জানিয়েছেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধকে কখনো সমর্থন করেনি, তারা নিজেদের স্বার্থলাভের জন্য ২৪-কে ৭১-এর চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়— চিত্রকর্মে সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’

দীপ্ত দেবনাথ আরও বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িপাল্লা বলতে ওজন মাপার যন্ত্র বোঝাতে চাইনি। দাঁড়িপাল্লা বলতে এমন একটি গোষ্ঠী বা দলকে বুঝিয়েছি, যারা মুক্তিযুদ্ধকে কখনো সমর্থন করেনি। তারা নিজেদের স্বার্থলাভের জন্য ২৪-কে ৭১-এর চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়—সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ছবিটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, ৭১ লেখা দিকে শুধুই ৭১ লেখা। কারণ ৭১-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। তবে ২৪-এর লেখার সঙ্গে কিছু ইট-পাথরের টুকরা রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, ২৪-এর দিকে অতিরিক্ত ওজন দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিজ স্বার্থলাভের উদ্দেশ্যে।’

চিত্রকর্মটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্কের পর তা চিত্রপ্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ছবিগুলো আগে থেকে পর্যালোচনা করা হয়নি বলেই এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রশাসন কোনো বিতর্কিত বিষয়কে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না।’

চিত্রকর্মটিতে দেখা যায়, একটি হাতের মুষ্টি দাঁড়িপাল্লা ধরে আছে। যার পাল্লার একপাশে লাল অক্ষরে ‘৭১’ এবং অপরপাশে কালো অক্ষরে ‘২৪’ লেখা। ২৪ লেখা পাল্লাটি খানিকটা নিচের দিকে ঝুঁকানো। এর ফলেই সৃষ্টি হয় সমালোচনার। একাত্তরের তুলনায় চব্বিশের গুরুত্ব বেশি বোঝানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button