News

সম্পর্ক নির্ভর করবে হাসিনাসহ অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর ওপর— ভারতের ‘র’ প্রধানকে বাংলাদেশের বার্তা

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’ প্রধান পরাগ জৈন ও সংস্থাটির লোগো© সংগৃহীত ও সম্পাদিত

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) আমন্ত্রণে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে সম্প্রতি দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের’ (র’) প্রধান পরাগ জৈন। এ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। 

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ব্যক্তিদের ফেরত পাঠিয়ে প্রমাণ করার ওপর ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে জানান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান। 

দ্য ঢাকা ডায়েরির পাঠকদের জন্য জুলকারনাইন সায়েরের পোস্টটি তুলে ধরা হলো: 

“ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ — R&AW-এর প্রধানসহ আরও তিনজন কর্মকর্তা ৯ আগস্ট – ১০ আগস্ট ঢাকা সফর করেন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ডিজিএফআই-এর আমন্ত্রণে। এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে ভারত সরকারের এসকল কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের একরকম তোপের মুখে পড়তে হয়।

R&AW প্রধান পরাগ জৈন ও অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস (আইপিএস কর্মকর্তা, যার পিতা এমভি কোটনিস দীর্ঘদিন একই সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন), রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী ঢাকায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

যথাযথ মাধ্যমে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ হতে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত পলাতক বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এবং প্রশ্ন করা হয়—ভারত সরকার ঠিক কোন বিবেচনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এসকল পলাতক কর্মকর্তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে এবং কবে নাগাদ তাদের ফেরত পাঠানো হবে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ফয়সাল করিম, তার সহযোগী আলমগীর ও ফিলিপকে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের সুস্পষ্ট দিন-তারিখ জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়াও ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে রুটিন দ্বিপাক্ষিক সফরে এসে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ভারতীয় দলের সদস্যরা।

ডিজিএফআই-এর দায়িত্বশীল একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে বাংলাদেশ হতে সরাসরি যেই বার্তা দেওয়া হয়েছে তা বেশ স্পষ্ট—সম্পর্ক গড়তে হলে ভারতকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারছে কি না। আর সে লক্ষ্যে পলাতক নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তর এবং শাস্তিপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার দলের অন্যান্য অপরাধীদের ফেরত পাঠিয়েই তাদের প্রমাণ করতে হবে সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক বা আদৌ আগ্রহী কিনা।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button