শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর অধীনে রাখতে হবে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে রাখার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি মেধাভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও নিবন্ধন সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশও করে আসছিল। এতে ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় এই পদ্ধতি বাতিল করে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিল এবং আগের মতো এনটিআরসিএর হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে দলীয়করণের একটি ক্ষতিকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা ও মহানগরে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দিয়ে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইতিবাচক সংস্কার করার কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী ভালো নিয়ম-নীতিগুলো পরিবর্তন করে পরিস্থিতিকে খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগের যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, গত ২১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা বাতিল করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এতে শিক্ষামন্ত্রীর সদিচ্ছা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তাই সরকারকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
source: Daily Amar Desh