News

ফেনীতে সাবেক পিআইও অফিস সহকারীর বাসা থেকে ত্রাণের মালামাল উদ্ধার

ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারীর ভাড়া বাসা থেকে সরকারি ত্রাণের বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। মালামালের মধ্যে রয়েছে কেজি চাল, তেল, ডাল, লবণ, চিনি, মসলা ও শুকনা খাবার।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কার্যালয়-সংলগ্ন ভাড়া বাসার নিচতলায় থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাসা থেকে ১০ বস্তা ত্রাণসামগ্রী ও তিন বস্তা শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি, ৩৩ কেজি মসুর ডাল, ৩০ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ২০০ গ্রাম) হলুদের গুঁড়া, ৩২ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) মরিচের গুঁড়া এবং ৩১ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) ধনিয়ার গুঁড়া।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ত্রাণসামগ্রী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের। এসব মালামাল গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে ‘২০২৪-২৫ অর্থবছর’ লেখা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুল বাকের গত বছরের ১০ জুলাই ফুলগাজী উপজেলায় যোগদান করেন। পরে চলতি বছরের ২২ জুলাই তিনি ফুলগাজী থেকে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় বদলি হন। বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর ভাড়া বাসাটি পরিবর্তন করেননি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাকেরের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ফুলগাজীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করায় তাদের সুবিধার্থে তিনি বাসা পরিবর্তন করেননি। অভিযুক্ত আবদুল বাকের (৪৫) নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ানই ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমিনউল্লাহর ছেলে। 

এদিকে ২০২৫ সালে ফুলগাজীতে ভয়াবহ বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এসব ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। সরকারি ত্রাণের মালামাল একজন কর্মচারীর ভাড়া বাসায় কীভাবে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল বাকেরকে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। 

ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ. দা.) রাজীব আহমেদ বলেন, বাকের বর্তমানে সন্দ্বীপে কর্মরত। সন্তানদের পড়ালেখার কারণে বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর বাসা পরিবর্তন করেননি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ফুলগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, জব্দ মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, ‘স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের প্যাকেটে থাকা লেখা অনুযায়ী এগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি ত্রাণ। ওই ব্যক্তি ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মাসে বদলি হয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর সন্দ্বীপ উপজেলায় কর্মরত বলে জানতে পেরেছি।’

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button