News

এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের লোগো© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগামীকাল (১৮ আগস্ট) বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বৈঠক। প্রতিবেদন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের। 
 
এনবিআর সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬.০৪ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংস্থাটির কৌশল কী হবে, তা জানতে চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন’ শীর্ষক প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক কর্মকর্তাদের মধ্যকার অসন্তোষ ও আস্থার সংকট দূর করতে সহায়তা করবে। এনবিআর বিভাজন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের আন্দোলন এবং এর জের ধরে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক অবসর ও বদলির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
 
কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদের সরাসরি এ ধরনের বৈঠক সচরাচর দেখা যায় না। এর আগে ২০২৩ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের বর্তমান ভবন উদ্বোধনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুরূপ একটি রাজস্ব সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।
 
এনবিআরের সদস্য সৈয়দ মুশফেকুর রহমান বলেন, “নতুন অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল নিয়ে তারা একটি প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করছেন। সেটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে।”
 
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিচালন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া, কীভাবে ভ্যাট নিবন্ধন ও পেমেন্ট করা হয়, অনলাইনে টিআইএন গ্রহণ ও রিটার্ন দাখিলের নিয়ম এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া ইত্যাদি।”
 
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আরও জানতে পেরেছি, তিনি এনবিআরের অটোমেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান অনিয়ম ও অদক্ষতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে চাইবেন। আমরা প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করছি।”
 
প্রায় ৩০ বছর এনবিআরে দায়িত্ব পালন করা এই রাজস্ব সংস্থার আয়কর অনুবিভাগের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কথা শুনলে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হবে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভেদ, ভয় ও অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।”
 
তিনি আরও বলেন, “শেষপর্যন্ত এটি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অতীতে রাজস্ব আদায়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিল। কিন্তু চলতি বছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ শতাংশেরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রথাগত চিন্তার বাইরে এসে ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে বসছেন।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button