উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা পাঁচ ও ৫ বছর করার সুপারিশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা বন্ধের দাবি

সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরির ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুপারিশ কোনোভাবেই বাদ বা কাটছাঁট না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে চাকরির ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুপারিশ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থে করা এই সুপারিশ কোনোভাবেই বাদ দেওয়া বা কাটছাঁট করা যাবে না।
সংগঠনটি জানায়, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্নবেতনভুক্ত কর্মচারীদের চাকরির ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে চারটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-তে সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে চাকরির ১০ ও ৬ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেডের ব্যবস্থা করা হয়। এতে কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপকভাবে আর্থিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আরও বলা হয়, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের এই ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মচারী নেতৃবৃন্দ জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সময়সীমা কমিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে ৫ ও ৫ বছর অন্তর দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুপারিশ করেছে, যা কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক।
কিন্তু কমিশনের এ সুপারিশ অর্থ বিভাগ থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্য বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাদ দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সুপারিশ যথাযথভাবে বহাল রেখে ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্য নিরসনের আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
source: The Daily Campus