News
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ভারতপন্থি হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ভারতপন্থি হিন্দু সম্প্রদায় ,বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান হুমকি।
তিনি বলেন, মক্কা জোটে যোগ দিলে আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর তৈরি হবে এবং তুরস্কের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বোমা ও যুদ্ধবিমান, সৌদি আরবের অর্থ, সব মিলিয়ে মুসলিম ন্যাটো আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ড হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
এবি পার্টির এই নেতা বলেন বলেন, “দেশের বিদেশনীতিতে অনেক বিপ্লবী ধারণা আসতেছে এবং বৈপ্লবিক অনেকগুলো কার্যক্রম আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কাজগুলো শুরু করেছেন, আমাদের সামরিক ও বিদেশনীতি প্রতিরক্ষা নীতি দেশের সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করার জন্য প্রায় পুরোটাই তা কন্টিনিউ করছেন এবং বর্তমান সরকার আরও নতুন কিছু মাত্রা যোগ করেছে।”
রাষ্ট্রকে বাগানের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র নামক একটা বাগান করতে হলে প্রধানতম শর্ত হলো সেই বাগানের নিরাপত্তা তৈরি করা। সেই বাগানের সীমানা আপনি হেফাজত করতে পারছেন কিনা ,যদি না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রের আইডিয়া, জনগোষ্ঠীর অধিকার, স্বপ্ন, আশা, কিছুই টিকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “পলাশীর যুদ্ধের পরাজয় থেকে শুরু করে গত ২০০-৩০০ বছর ধরে আমাদের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ,বিশেষ করে ভারত ,কে গণমাধ্যমে, বুদ্ধিজীবিতায়, রাজনীতিতে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার সংবিধানে বলা আছে ,‘কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব’। কিন্তু রাষ্ট্র তৈরি হয় শত্রু সাপেক্ষে। আমি মিয়ানমারের নাগরিক নই, আমি বাংলাদেশি। আমি ভারতের নাগরিক নই, আমি বাংলাদেশি। তাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে শত্রুজ্ঞান করার মাধ্যমেই আপনি এক্সিস্ট করেন।”
ভারতীয় আগ্রাসনকে সামনে এনে তিনি বলেন, “আমাদের কারো প্রতি শত্রুতা নেই, কিন্তু গত ৫৫-৫৬ বছর ধরে বাংলাদেশের ভূমি, আকাশপথ, নৌপথ ,প্রত্যেকদিন আমাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ভারত ও মিয়ানমার। রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের সময় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টসে তাদের মিসাইল এসেছে, সি লাইনে যুদ্ধজাহাজ নোঙর করেছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্ত হত্যা ও ফেন্সিডিলের ব্যবসা করছে।”
তিনি বলেন, “সার্বভৌমত্বের প্রধান শত্রু আমার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু এদের প্রতি আমার কোনো শত্রুতা নেই ,শুধু বন্ধুত্ব থাকবে ,এই মিসগাইডেড ফরেন পলিসির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী না করে দুর্বল করা হয়েছে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন ,ভিলেজ ডিফেন্স ফোর্স করা, বিডিআরকে শক্তিশালী করা, সামরিক নেতৃত্ব আনা। ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে অপারেশন শিল্ড-আয়রন শিল্ডের মাধ্যমে বহু বাহিনীকে নিয়ে মহড়া করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সেই জায়গা থেকে আজকের বিদেশনীতি ,বেইজিং, তুরস্ক, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক যাই করি না কেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া তা সম্ভব নয়।”
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে তিনি বলেন, “এরপর আছে ‘বাংলাদেশি আওয়ামী ধর্ম’ ,আওয়ামী লীগ জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। এছাড়া সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি অংশ (ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হিন্দু) চিন্তায় বিজেপির হিন্দুত্ববাদ ও ভারতকে লালন করেন। তারা বাংলাদেশি নাগরিক সত্তায় বিশ্বাস করেন না।”
তিনি আরও বলেন, “দলিত-নবশূদ্র ও গরিব হিন্দুরা আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের (চাকমা-মারমা) ক্রস-বর্ডার সম্পর্ক আছে, যা নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে। এই তিন শ্রেণি ,আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ভারতপন্থি হিন্দু সম্প্রদায় ,বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি থ্রেট। তাই মক্কা জোটে যোগ দিলে আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর তৈরি হবে।”
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন , “তুরস্কের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বোমা ও যুদ্ধবিমান, সৌদি আরবের অর্থ ,সব মিলিয়ে মুসলিম ন্যাটো আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ড হবে।”
সবশেষ ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন তিনি বলেন, “বিমস্টেক বা ব্রিকসের মিটিংয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ,সবকিছু মিলিয়ে আমরা মনে করি, সরকার একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকার অভিমুখ তৈরি করছে।আমরা বিশ্বাস করি, তারা কঠোরভাবে এই অবস্থানে থাকবেন এবং আপোষ করবেন না। দেশের মানুষ তাদের পাশে থাকবে।”
source: The Dhaka Diary