লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি

লঘুচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় কমেছে তাপমাত্রা, ফিরেছে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির এই প্রবণতা বুধবার ও বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর দুদিন বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে রোববার থেকে আবার তা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে, ৮৪ মিলিমিটার। রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২১ মিলিমিটার। বৃষ্টির কারণে আগের কয়েক দিনের তুলনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমেছে।
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার কিশোরগঞ্জের নিকলিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
তিনি জানান, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে। একই সঙ্গে কয়েক দিনের প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা কমে গেলে আবারও তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পর আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত কিছুটা কম থাকতে পারে। এরপর রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপাতত স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া থাকলেও বর্ষার শেষভাগে বৃষ্টি ও রোদের পালাবদল অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
source: Daily Amar Desh