‘তুই আমাদের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিস কেন’— প্রশ্ন করেই স্কুল শিক্ষককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত

তুই আমাদের একটা ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিস কেন?—এমন প্রশ্ন তুলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় নজরুল ইসলাম নামে এক স্কুল শিক্ষককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নজরুল ইসলাম লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের উকিলের পাড়ার আবদুল গণির ছেলে। তিনি বর্তমানে উপজেলার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আহত স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এবং আমার বন্ধু মারওয়ান মিলে মা ও শিশু হাসপাতালের পেছনে চা খেয়ে শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়ক হয়ে যাওয়ার সময় ৪ থেকে ৫ জন ছেলে তুই আমাদের একটা ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিস কেন বলে ছুরি ও ক্ষুর নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাত করেছে। এরপর আমরা দৌঁড়ে কিছুদূর সামনে গেলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. হোসাইন আল ইমরান বলেন, ওই শিক্ষককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত স্থানগুলোতে ড্রেসিং ও সেলাই করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রাসঙ্গত, গত (২২ আগস্ট) ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দীন ভূঁইয়া সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে সহকর্মী নাজিবকে সঙ্গে নিয়ে বটতলী স্টেশনের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আয়ানকে আটক করে লোহাগাড়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন। একই দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনে ডেভিড জিহাদ পরিচয়ে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়।
source: The Daily Campus