News

‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার’ না লিখে ‘ব্যারিস্টার এট ল’, হলফনামার ভুল নিয়ে যা বলছেন এমপি মাহবুবা হাকিম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়টি ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলা স্ট্রিম অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি সামনে আসে। বিষয়টি স্বীকার করে এমপি মাহবুবা বলছেন, নমিনেশন ফরম প্রস্তুতসহ মূল সনদ গ্রহণ করা দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের টাইপজনিত ভুলে এমন তথ্য হলফনামায় গেছে।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল। মাহবুবা হাকিম তার হলফনামায় স্বাক্ষর করেন ১৯ এপ্রিল। পরদিন ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ওয়েবসাইটে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তাঁর পরিচিতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার তথ্য উল্লেখ করা হয়।

স্বাক্ষরকৃত হলফনামায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলএম, ব্যারিস্টার এট ল’ লেখা রয়েছে। যদিও দলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিচিতিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া তার অন্য কোনো উচ্চতর ডিগ্রির উল্লেখ নেই।

এদিকে সংসদ সদস্য হওয়ার পর বিভিন্ন বক্তব্যে মাহবুবা হাকিম নিজেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলেও নিজেকে প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার তথ্য রয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নতুন সম্মানীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত ২০ মে বুটেক্স প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এর আগে ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিকে (বর্তমানে বুটেক্স) বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও মাহবুবা হাকিম অংশ নিয়েছিলেন।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা নয়; বরং নথি প্রস্তুতের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক বা টাইপজনিত ভুলের কারণে এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ৬৪ শতাংশ সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য শতভাগ

দলটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করা। কিন্তু হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’ উল্লেখ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হলফনামা তৈরির সময় পূর্বনির্ধারিত একটি ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়। সেই ফরম্যাটে কাজ করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পূর্বের তথ্য থেকে কপি-পেস্টের মাধ্যমে এই ভুলটি থেকে যায়। ফলে প্রকৃত তথ্য থাকা সত্ত্বেও উপস্থাপনায় অসঙ্গতি দেখা দেয়।’

এই তথ্য সামনে আসার পর চলছে নানা আলোচনা, এটা কি আসলেই দলের ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি কপি-পেস্ট করতে গিয়ে ভুল। আর এই তথ্য এতদিন পর সামনেই কেনো আসলো, আগে কোনো আসলো না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?

হলফনামায় ভুল তথ্য আসার কারণ জানতে চাইলে মাহবুবা হাকিম বলেন, ‘নমিনেশন ফরম প্রস্তুতসহ মূল সনদ গ্রহণ করা দলের দায়িত্বশীল দুইজনের উপর ন্যস্ত ছিল। হতে পারে টাইপজনিত অর্থাৎ করণিক ভুলের কারণে এখানে ‘ব্যারিস্টার এট ল’ এসেছে। হলফনামায় ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’-এর ওপরে কলমের দাগ কাটা আমি যেহেতু ব্যারিস্টার নই এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সনদ জমা দেওয়া তাই হয়ত নির্বাচন কমিশন থেকেই যাচাই-বাছাইয়ের সময় ঐখানে দাগ দেওয়া হয়েছে।‘

তিনি আরও বলেন, ‘সবার প্রথমে এই ভুলটি নিয়ে কথা বলেছেন নমিনেশন ফর্ম নিয়ে কাজ করা দলের একজন। তার সপ্তাহখানেক পরেই গত সপ্তাহে বাংলা স্ট্রিমের সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে একজন আমার সাথে এই ত্রুটি নিয়ে কথা বলেন। উনাকে যথাসম্ভব আমার পক্ষ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।’

এতদিন পর এই তথ্যটি সামনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো কিছুই বলা হয়নি। নিউজটি এভাবেও করা যেত ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপির হলফনামায় ব্যারিস্টার এট ল কেন? হতে পারে আমাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে। কিন্তু তারা বুঝলো না যে, বুটেক্সের একজন ইঞ্জিনিয়ার হলফনামায় ব্যারিস্টার পরিচয় দিয়ে কি লাভ, যেখানে আমি, আমার দল, বিভিন্ন মিডিয়া শুরু থেকে আমার পরিচয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার বলে আসছি। এই ঘটনার জন্য সরকারি দল থেকে আমার ওপর কোনরকমই চাপ আসছে না।’

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button