News

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান© ফেসবুক থেকে নেওয়া
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
 
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাই প্রকৃত সুস্বাস্থ্য। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
 
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
 
তারেক রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষকে অবহেলা না করে তাঁর কথা শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
 
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমানের উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্যে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণে কাজ চলছে।
 
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, সীমিত সেবার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতিতে অনেকে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা ও গুণগত মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
 
প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গর্ভবতী মা ও শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও কাজ করছে সরকার।
 
মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের কথা শুনতে হবে, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের সর্বস্তরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
 
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না কিংবা সহায়তা চাইতে লজ্জিত হবে না। তিনি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেশের ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button