Bd বাংলাদেশ

খলিলকে উপদেষ্টা পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে: বিএনপি

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ড. খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে হাজির করার দাবি জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান দেড় দশকের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের গণমানুষের নেতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রূপকার, মাফিয়া অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বর্বরতম জিঘাংসার শিকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশের মানুষ বিস্মিত, হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রতিভূ হাসিনা যেভাবে গণতন্ত্রকে কফিন পরিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের ইন্দ্রজাল সৃষ্টির জন্য জিয়া পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটাতেন, উপদেষ্টার এই মন্তব্য যেন তারই পুনরাবৃত্তি। এখনো যেন লোকমানসে উজ্জ্বলতর তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার জন্য আঘাত হানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ড. খলিল তার নিজের পক্ষে ওঠা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের মতো তারেক রহমানের (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) বিপক্ষে প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছেন, যা জনগণ মেনে নেবে না।

ফ্যাসিবাদের দেড় দশক ড. খলিলুর কোথায় ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কোন দেশে ছিলেন? বিদেশে তার স্ট্যাটাস কী ছিল? ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে তার ভূমিকা কী ছিল? অবশ্যই এসব প্রশ্নের জবাব জনগণকে জানাতে হবে।’

রিজভী বলেন, ‘কথিত মানবিক করিডর ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশেষ করে ড. খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। করিডর নিয়ে গত এক মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একেকজনের একেকরকম বক্তব্যে মনে হয় সরকার পথ হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের কথা পরিষ্কার, এসব করার দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নয়। এসব বিষয় বিবেচনার দায়িত্ব জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নির্বাচিত সরকারের। এই সরকারের নিরপেক্ষতা এবং সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই সরকারের মধ্যে যাদের নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সম্পর্কে জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তারেক রহমানকে নিয়ে ড. খলিলের বক্তব্য গণতন্ত্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক সার্থকতার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ। তার অহেতুক প্রলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ সুকৌশলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে অনিরাপদ করে তুলতে চান।

তিনি বলেন, ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাওয়ার মতো ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘কেবল আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কালকে তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পারে।’ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ড. খলিলুর রহমানের এহেন বক্তব্য নিঃসন্দেহে আত্মগরিমার প্রদর্শন ও দুরভিসন্ধিমূলক। ড. খলিলুর রহমান জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত এবং মানুষের মাঝে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে এ বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে মনে রাখতে হবে-বাংলাদেশ অনির্বাচিত কর্তৃত্বদের অনুকূল সমাজভূমি নয়। তিনি (ড. খলিলুর) তার কথাবার্তায় আচরণে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছেন। তিনি হয়তো দেশি-বিদেশি কারও স্বার্থ চরিতার্থ করার মিশনে যুক্ত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় ছিল ধ্বংসের শক্তি, জনগণ তা প্রতিহত করেছে। আমরা আর নতুন করে কোনো প্রভুত্বদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি হতে চাই না।

রিজভী বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি এমন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানিয়েছেন, দেশের জন্য যার কোনো দৃশ্যমান অবদান নেই। তিনি তো বাংলাদেশের জন্য নন, বিদেশের জন্য কাজ করবেন। মানবিক করিডর বা চ্যানেল নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশকে অস্থির করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: jugantor.com

Back to top button