যে আইন প্রণয়নের জন্য পদত্যাগের হুমকি দিতে হয়েছিল, জানালেন আসিফ নজরুল

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা (সাবেক) অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রণয়নের পেছনের ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কোনো কোনো আইন প্রণয়নের জন্য তিনি পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, আমরা একের পর এক উচ্চাভিলাষী আইন করে যাচ্ছিলাম। মানবাধিকার কমিশন, গুম, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, দুদক আইন ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি। বলেছিলাম এগুলোই প্রকৃত সংস্কারমূলক আইন। আমরা এই আইনগুলো প্রনয়ণ করতে অনেক কষ্ট সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়ন করার জন্য আমাকে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজ ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আমরা একের পর এক উচ্চাভিলাষী আইন করে যাচ্ছিলাম। মানবাধিকার কমিশন, গুম, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, দুদক আইন ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি। বলেছিলাম এগুলোই প্রকৃত সংস্কারমূলক আইন।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে তখন ‘কোথায় সংস্কার, কোথায় সংস্কার’ বা ‘সরকার তো কিছুই করছে না ’বলে আমাদের নাকচ করেছেন। কেউ কেউ ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। দুএকজন পন্ডিত এমন কথাও বলেছে, এসব করে কি লাভ! এসব তো করবে নির্বাচিত সরকার!’
সাবেক এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এখন এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, আমাদের বন্ধু ও সমালোচকরা বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রনীত আইনগুলো আসলেও ভালো ছিল এবং এসব করে রাখা দরকার ছিল। পুরো দেশ এখন সোচ্চার হচ্ছে এই আইনগুলো রাখার দাবী নিয়ে।’
আইন প্রণয়নে নিজেদের ত্যাগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এই আইনগুলো প্রনয়ণ করতে অনেক কষ্ট করেছি। আইন মন্ত্রনালয়ের তুখোড় মেধাবীদের নিয়ে গড়া একটা টিম দিনরাত কাজ করেছে। আমরা রিসার্চ করেছি, নিজেরা বসে নিয়মিত আলোচনা করেছি, অন্যদের পরামর্শ নিয়েছি, বারবার ড্রাফট পরিমার্জনা করেছি। এছাড়া, সরকারের ভেতর নানা প্রতিকূলতার সাথেও নিরন্তর লড়াই করেছি। সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়ন করার জন্য আমাকে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।’
ড. আসিফ নজরুল সবশেষে বলেন, ‘আমাদের এতো কষ্ট বৃথা যাবে না বলে বিশ্বাস করি। মানুষ বলতে শুরু করেছে এসবই প্রকৃত সংস্কার, এসব অধ্যাদেশ রাখতে হবে। আমার মনে হয়না এসব আইন থেকে পিছিয়ে পড়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে এখন। আমাদের অন্যান্য কয়েকজন উপদেষ্টাও আইনগত সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন। রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয় ভালো কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে। আশা করি আমরা সবাই এসব আইন রাখার বিষয়েও সচেতন থাকবো।’
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedhakadiary.com

