Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিজেপির কাছে তৃণমূলের ২২ মন্ত্রীর শোচনীয় পরাজয়

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক নাটকীয় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। এই নির্বাচনে বিজেপির কাছে দলের মূল নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের পরাজয় শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসনে পরাজিত হয়েছেন, যা দলটির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা কেবল স্থানীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ভোট দেননি, বরং তারা তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্বকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের মধ্যে ২২ জনই হারের মুখ দেখেছেন। অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রীই এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছেন।

পরাজয়ের এই বিশাল মাত্রা ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ বর্তমান শাসকদলের নেতৃত্বের কাঠামোর ওপর আস্থা হারিয়েছেন। এই গণপ্রত্যাখ্যানের ফলে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিজেপির বিশাল জয়ের বিপরীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মুখগুলো একে একে ঝরে পড়েছে।

পরাজিত ২২ জন তৃণমূল মন্ত্রীর তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ভবানীপুর) ছাড়াও রয়েছেন আবাসন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (দমদম), এবং পরিবেশ ও অর্থ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম)। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর), দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (বিধাননগর), পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনিল সেন (চন্দননগর) এবং কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নাও (সিঙ্গুর) বিজেপির ঢেউয়ে ভেসে গেছেন।

এছাড়া পরাজিত মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ (পূর্বস্থলী দক্ষিণ), আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী বুলু চিক বরাইক (মাল), সমবায় ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ কুমার মজুমদার (দুর্গাপুর পূর্ব), বন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (বিনপুর), সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া (সবং), শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), জনশিক্ষা প্রসার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (মন্তেশ্বর) এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (দিনহাটা)।

এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটারদের এই রায় অত্যন্ত সুষ্পষ্ট। তারা মনে করছেন, ‘ভোটাররা কেবল প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ভোট দেননি, তারা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্বকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।’

এই গণরায় শুধু ব্যক্তিগত পরাজয় নয়, বরং সরকারের নীতি ও পরিচালনার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজেপির এই বিজয় বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে তৃণমূলের একসময়ের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Leave a Reply

Back to top button