সংকটাপন্ন সেফুদা, বললেন— ‘আমার লাশ বাংলাদেশে নেওয়ার মতো কেউ নেই’

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ফেসবুক লাইভে এসে অদ্ভুত সব আচরণ, বিতর্কিত মন্তব্য ও হাস্যরসের জন্য পরিচিতি পাওয়া সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা’র জীবন সংকটাপন্ন। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হসপিটালে চিকিৎসাধীন একটি ছবি শেয়ার করে বিষয়টি জানান নিজেই।
তবে এবার সিফাত উল্লাহ যা লিখেছেন তাতে অবশ্য মন পুড়বে ভক্তদের। কারণ এতে সবার চোখে ভেসে উঠবে একজন রষিক মানুষের একাকিত্বের গল্পটা।
সিফাত উল্লাহর পোস্টটি ছিলো এমন— ‘আমার অবস্থা সংকটাপন্ন। আপনারা অনেকেই জানেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি দেশে যা আছে আমি একটি কলেজের নামে দিয়ে দিয়েছি। ইচ্ছে ছিল মায়ের নামে একটি হাসপাতাল করার। যদি আমি মারা যাই, আপনাদের কাছে শুধু দোয়া চাই। হয়ত আমার লাশ আমার প্রিয় বাংলাদেশে যাবে না। নেওয়ার মতো কেউ নেই, আমাকে সবাই ক্ষমা করুন।’
সিফাত উল্লাহ, যিনি অনলাইনে ‘সেফুদা’ নামে পরিচিত। অস্ট্রিয়ান প্রবাসী এই বাংলাদেশি দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত নানান হাস্যরসাত্বক কর্মকাণ্ডের কারণে। ফেসবুকে তার ফলোয়ারের সংখ্যাও প্রায় ৫ লাখ।
জানা যায়, সেফুদা খুলনার সোনাডাঙ্গায় ৫ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। ১৯৮৫ (মতান্তরে ১৯৮৮) সালে প্রথম সৌদি আরব যান এবং সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে (মতান্তরে ১৯৯১) সালে অস্ট্রিয়ায় যান।
তথ্য অনুযায়ী, সেফাত উল্লাহ ১৯৭৯/১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এরপর ভিয়েনায় এক স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি একটি অনলাইন শপে পার্টটাইম কাজ করতেন। ২০১০ সালে স্ট্রোক করেন সিফাত উল্লাহ। তার কিছুদিন পর মাথার চুল পড়ে যায়।
সেফুদার স্ত্রী এবং এক সন্তান রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তান কিংবা পরিবারের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সম্পর্কবিহীন সিফাত উল্লাহ দেশের ওপর রাগ করে একাকী প্রবাস যাপন করছেন দীর্ঘদিন।
সেফুদার বড় ভাই শামছুল আলম মজুমদারের ভাষ্যমতে, ‘সেফাত উল্লাহ ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। এরপর জাতিসংঘের শ্রম সংস্থায়ও (আইএলও) চাকরি করেছিলেন একসময়।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedailycampus.com

