জাবিতে অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, ফাঁস অডিওতে জাকসু ভিপির নাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনে নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে শাখা প্রশাসনিক কর্মচারী ও ছাত্রনেতাদের নাম যুক্ত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শহীদ সালাম-বরকত হলের কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক ড্রাফটের নির্ধারিত ৬ হাজার টাকার বাইরে বাড়তি ১০ হাজার টাকা দাবি করতে শোনা যায়। কথোপকথনে টাকা না দিলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ হোসেনের নাম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কথোপকথনে সময়মতো টাকা সংগ্রহ করা নিয়ে মনির হোসেনকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শোনা যায় এবং রিকশাচালকের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার টাকা গণনার লেনদেনের বিষয় উঠে আসে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় যে বিষয়টি জানাজানি হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে অটোরিকশা অনুমোদনের নামে এমন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন সমস্ত দাবি অস্বীকার করে জানান, অডিওর বিষয়টি মিথ্যা এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। তিনি দাবি করেন, এক রিকশাচালক তাঁর কাছে আগে থেকে ধার নেওয়া টাকা শোধ করেছেন মাত্র। অন্যদিকে সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেন জানান, তিনি কেবল এক ব্যক্তির অনুরোধে সুপারিশ করেছিলেন, তবে বাড়তি টাকা লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানেন না।
ঘটনায় নাম উঠে আসা জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব না হলেও আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর নাম ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
source: Azadir Dak

