ইসরাইলের স্বীকৃতি দাবি ট্রাম্পের, অনিশ্চয়তায় সৌদির পরমাণু চুক্তি

বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সই করা ঐতিহাসিক চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার আগেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ওপর।
বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এ চুক্তি বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ওপর। এ চুক্তির মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা দেয়, ওয়াশিংটন ও রিয়াদ কয়েক বিলিয়ন ডলারের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তি সই করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর পথ তৈরি হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এটি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন।
ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে চুক্তি নিয়ে আরো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ আগে ঘোষিত চুক্তিতে সৌদি আরবের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্ত প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সৌদি আরবও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ (এনরিচ) করতে পারবে, অর্থাৎ বিদেশ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি না করে নিজেরাই তা উৎপাদন করবে, কিন্তু বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করে লিখেছেন, কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক (অসমৃদ্ধ) পারমাণবিক স্থাপনার বিরোধী নয়।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, বরং শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের সার্বভৌম অধিকার। অন্যদিকে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা। কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতারও আশঙ্কা, সৌদিকে যদি নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এতে ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আরো এগোতে উৎসাহিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরিকল্পনার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদারকির কোনো আবেদন তাদের কাছে আসেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদন পেলে তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ওয়াশিংটন থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না বলেছেন, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে চুক্তি নিয়ে আরো অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি আগের ঘোষিত চুক্তির অংশ ছিল বলে মনে হচ্ছে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসেও ব্যাপক আলোচনা হতে পারে।
২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। পরে মরক্কো ও সুদানও এ চুক্তিতে যোগ দেয়, যদিও সুদান এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি।
গাজায় চলমান সংকটের পর এসব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেকটাই শীতল হয়ে পড়েছে। এরপরও ট্রাম্প প্রশাসন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
source: Daily Amar Desh

