গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার

বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স’ (ডাইরা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬ (বিডিসি ২০২৬)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যেসব ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি পেশাদার কোনো বিশ্লেষক নন, বরং মাঠপর্যায়ের একজন রাজনীতিক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে নিজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের সক্ষমতা ও তৈরি হওয়া নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে। সরকার ইতোমধ্যে অর্থনীতি পুনর্গঠন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে আবার গতিশীল করতে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শিল্প উন্নয়ন, কৃষিখাতের অগ্রগতি ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটেও বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে নানামুখী উদ্যোগ রাখা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে একটি সর্বজনীন ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে আগে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো বাড়াতে হবে। দেশের মানুষের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার ওপর ভর করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে—যেখানে সবাই উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড অ্যা চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক পরিবর্তন, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন ও নীতিগত করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এএম
source: Daily Amar Desh

