জাতীয়

জুলাই এক‌টি অসমাপ্ত বিপ্লব, এটি‌কে সম্পূর্ণ কর‌তে হ‌বে

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ব‌লে‌ছেন, ‘জুলাই এক‌টি অসমাপ্ত বিপ্লব, এটি‌কে সম্পূর্ণ কর‌তে হ‌বে। আমি কদিন আগে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসির) অনুষ্ঠা‌নে গিয়ে বলেছি, এই বিপ্লব এক‌টি চলমান প্রক্রিয়া। কাজেই এই বিপ্লবকে আমা‌দের কমপ্লিট করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।’

রোববার রাজধানীর ইন‌স্টি‌টিউট অব ডি‌প্লোমা ইঞ্জি‌নিয়ার্স মিলনায়ত‌নে বাংলা‌দেশ স‌ম্মেলনের প্রথম অ‌ধি‌বেশ‌নে ‘জুলাই বিপ্লব ও বাংলা‌দেশপন্থা: তত্ত্বগত দৃ‌ষ্টিভ‌ঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তিনি এসব কথা ব‌লেন। অ‌ধি‌বেশ‌নে সভাপ‌তিত্ব ক‌রেন অ‌স্ট্রেলিয়ার ও‌য়েস্টার্ন সিড‌নি ইউনিভা‌র্সি‌টির এমি‌রেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বলতার কার‌ণে কর্মসংস্থা‌নের জন্য মানু‌ষের ঢাকামুখী প্রবণতা বাড়‌ছে। এর ফ‌লে রাজধানী বসবা‌সের অনু‌পযোগী হ‌য়ে পড়েছে। এই ঢাকা‌কে বাস‌যোগ্য কর‌তে কৃ‌ষি‌তে কর্মসংস্থান বাড়া‌তে হ‌বে এবং উৎপাদন খা‌তে স‌র্বোচ্চ গুরুত্ব দি‌তে হ‌বে।

তিনি ব‌লে‌ন, দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে কৃষি ও উৎপাদনশিল্প— এ দুই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এর কারণ হি‌সে‌বে তিনি বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয় কৃষি খাতে। তাই মানুষকে কর্মসংস্থানের মধ্যে রাখতে কৃষিকে উৎসাহ এবং এই খা‌তে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। কৃষি খাত শক্তিশালী হলে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকবে এবং কাজের অভাবে মানুষের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আজ ঢাকার যে অবস্থা, তা মূলত গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বলতার ফল। কাজের সন্ধানে মানুষ ঢাকায় চলে আসায় শহরটি এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তার মতে, প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই ছোট শহরে বসবাস করা সম্ভব নয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ঠিক থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

আমার‌ দেশ সম্পাদক আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎপাদনশিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাতের বিকল্প নেই। তিনি বিআইডিএর (BIDA) ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালেও সব সময় উৎপাদনশিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশটির মাথাপিছু আয় এখন ৫ হাজার ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশেরও প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ভিয়েতনামের এই অবস্থানে পৌঁছানো। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের আগে ভিয়েতনামকে লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া বাস্তবসম্মত।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনামই বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। একসময় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এখন সেই জায়গায় ভিয়েতনাম উঠে এসেছে। কেন ভিয়েতনাম এগিয়ে যাচ্ছে আর বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে, সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

মূল প্রব‌ন্ধে সিঙ্গাপু‌রের না‌নিয়াং টেক‌নোল‌জি ইউনিভা‌র্সি‌টি‌র অধ্যাপক ড. মো. সাইদুল ইসলাম ব‌লেন, বাংলাদেশের ভ‌বিষ্যৎ রাষ্ট্রদর্শন কোনো একটি মতাদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে টেকসই হতে পারে না, এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত রাষ্ট্ৰদর্শন, যা একত্র করবে বাংলাদেশের ইতিহাস, ইসলামী নৈ‌তিকতা, আধুনিক গণতন্ত্র, জুলাই বিপ্লবের চেতনা। এই সম‌ন্বিত রাষ্ট্রদর্শ‌নের নাম বাংলাদেশপন্থা।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন— অ‌স্ট্রেলিয়ার ইউনিভা‌র্সি‌টি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের এমি‌রেটাস অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান, চল‌চ্চিত্র নির্মাতা ও অ‌ভি‌নেতা মাবরুর র‌শিদ বান্নাহ প্রমুখ।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button