দেবিদ্বারে শিশু পেটানো ভাইরাল মাদরাসা শিক্ষকের পরিচয় মিলল, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কুমিল্লার এক মাদরাসায় শিশুদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিওচিত্রটির সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফুলগাছতলায় অবস্থিত ‘বাবুস সালাম মাদরাসা’-র একটি শ্রেণিকক্ষে সংঘটিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনাটি গত বছরের শেষদিকে বা চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘটেছিল।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কোমলমতি শিশুদের ওপর নির্দয় ও নৃশংসভাবে বেধড়ক পেটানো শিক্ষক নামধারী ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হাফেজ জাকারিয়া। একাধিক স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বিকৃত মানসিকতার এই শিক্ষক কেবল শারীরিক নির্যাতনই নন, বরং ওই মাদরাসার একাধিক শিশুকে যৌন নির্যাতন বা বলাৎকার করেছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্ত হাফেজ জাকারিয়াকে কোনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মূলত মাদরাসা কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহার কারণেই তিনি অধরা থেকে যান।
ঘটনাটি জানাজানি ও ভিডিওটি জনসমক্ষে প্রকাশ পাওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে হাফেজ জাকারিয়া দেবিদ্বারের বাবুস সালাম মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি পাশের মুরাদনগর উপজেলার ‘মারকাযুন নুর মাদরাসা’-য় শিক্ষক হিসেবে যোগ দান করেন।
শিক্ষকতার আড়ালে শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অবস্থান প্রকাশ পাওয়ায় অভিযুক্ত হাফেজ জাকারিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।
source: Azadir Dak