সর্বশেষ

কওমি মাদরাসায় শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওচিত্রে কওমি মাদরাসায় এক শিক্ষকের হাতে কোমলমতি শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য উঠে এসেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের অধিকাংশ কওমি মাদরাসায় শাসনের নামে শিশুদের ওপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়ন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক ভয় ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে অধিকাংশ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি কওমি মাদরাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। দারিদ্র্য ও এতিম হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও সেখানে তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক কর্তৃক শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের খবর সামনে এলেও স্থানীয় প্রভাব কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে আসামিরা পার পেয়ে যায়।

২০১১ সালে উচ্চ আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি অসাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী ঘোষণা করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করলেও বেসরকারি কওমি মাদরাসায় এর কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতা হলেও কওমি মাদরাসাগুলোতে তদারকির অভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা স্পষ্ট হচ্ছে।

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, কওমি শিক্ষা বোর্ডগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল ডেটাবেস’ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে শিশু নির্যাতনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান। প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহর (সা.) আদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার আলোকেই শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button