যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশিদের লাগতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানতের বিধান স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই নীতি বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন মনে করলে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা অনুমোদনের শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত চাইতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচির ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কর্মসূচিটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানতের সুযোগ ছিল। তবে নতুন বিধিমালায় ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এই বিধিমালা আগামী ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টি আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভুটান রয়েছে, তবে ভারত এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার প্রবণতা বা ‘ভিসা ওভারস্টে’ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, অতিরিক্ত অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেক বৈধ ভ্রমণপ্রত্যাশীর জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এসব নীতি জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং বর্ণভিত্তিক বৈষম্যকে উৎসাহিত করছে বলেও তাদের দাবি।
যদিও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করা অপরিহার্য।
এআরবি
source: Daily Amar Desh