বিশ্ব

একজন ইসরাইলি গাজায় থাকলেও অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো একটি নিরস্ত্রীকরণ রোডম্যাপে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে কার্যকর অগ্রগতি অপরিহার্য বলে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক এ ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে হামাস সশস্ত্র প্রতিরোধ পুরোপুরি ত্যাগ করেছে এমন আলোচনা শুরু হলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। হামাসের অবস্থান অনুযায়ী, তারা সরাসরি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সমর্পণে রাজি নয়। বরং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছেই অস্ত্র হস্তান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইল যদি গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে এবং সেখানে পুনর্গঠন কার্যক্রমে বাধা না দেয়, তাহলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ব্যক্তিগত অস্ত্র নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ধীরে ধীরে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তবে এ পরিকল্পনার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরাইলের অবস্থানের ওপর। এখন পর্যন্ত ইসরাইলের পক্ষ থেকে গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার কিংবা পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর কোনো ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা চালায়নি এবং প্রশাসনিক দায়িত্বও জাতীয় প্রশাসনিক কমিটির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। অপরদিকে, তাদের অভিযোগ, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির নানা শর্ত লঙ্ঘন করেছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে, হামাস বর্তমানে মূলত দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই উদ্যোগ নিয়েছে—গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা। তবে ইসরাইল যদি এসব শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আবারো সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও এ সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত গাজার পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, হামাসের এই প্রস্তাবকে একদিকে গাজার মানবিক সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করবে ইসরাইলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর।

সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল

এআরবি

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button