News
‘জামায়াত আমিরের বাসায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থাকলেও শহীদ জিয়ার কোন ছবিও নেই, বিষয়টি রহস্যজনক’

সম্প্রতি জামায়াত ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসার আয়োজিত একটি চিত্র প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মর্চের ভাষণ থাকলেও শহীদ জিয়াকে নিয়ে কোন কিছু ছিল না; বিষয়টি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাউকে বাদ দিয়ে ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।’
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) যৌথ উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, “১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের একটি পরিণতি রয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি। এই জাতি কখনো অন্যায়-অবিচার দীর্ঘদিন ধারণ করে না। এই জাতি সবসময় যেকোনো আগ্রাসী শক্তি ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি পর্যায়ে ভয়ঙ্কর রূপে আত্মপ্রকাশ করে। সেই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে জুলাই।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এর পেছনে ছিল সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ। তার দাবি, আন্দোলনে ১৫ থেকে ২০ জন রিকশাচালক এবং ৯৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে এটি ছিল সামগ্রিকভাবে জনগণের একটি বড় উত্থান।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, “যারা এখন নরম সুরে কথা বলছেন বা ‘শেখ হাসিনার আমলেই বোধহয় ভালো ছিল”-এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের অবস্থান গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসায় সম্প্রতি আয়োজিত একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের বিভিন্ন চিত্র থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার ছিল না। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিষয়টি আমাদের কাছে শুধু জটিল নয়, বরং রহস্যজনকও মনে হচ্ছে।”
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাউকে বাদ দিয়ে ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়ে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “এসব বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।”
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “বাংলাদেশের বিদেশে বন্ধু রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রভু নেই। আমরা সবসময় বলেছি, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে। আমাদের দল থেকেও বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে-বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে। কিন্তু কখনো আমরা বলিনি যে বিদেশে আমাদের প্রভু আছে।”
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে কোনো দেশের কাছে প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি দিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সরকার ওই আয়োজনের বিষয়ে ‘কিছু করার নেই’ বলে যে অবস্থান নিয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি বলেন, “সরকারের অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কি যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারে? সেখানে একজন পলাতক ফ্যাসিস্ট বক্তব্য দেবেন এবং সরকার বলবে, এখানে আমাদের কিছু করার নেই-এটি কি গ্রহণযোগ্য?”
অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি মামলা পরিচালনার জন্য লন্ডন থেকে লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে চাইলেও তৎকালীন সরকার তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
source: The Dhaka Diary