মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তারা। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর মধ্য বাসাবো এলাকার বাসাবো জনপ্রিয় সংঘ মাঠে বাসাবো বাল্যবন্ধু ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
বাসাবো বাল্যবন্ধু ফোরামের সভাপতি খ ম উসমান গনি টুটুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন—সড়ক ও রেলপথ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, বিএনপি নেতা কাজী ইয়াহিয়া বাবু, বশির উল আলম ফারুক, ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা খন্দকার এনামুল হক এনাম, সাইদ উদ্দিন সুমন ও হারুনুর রশিদ।
বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তুলতে হলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তারা বিশেষ করে তরুণদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও আয়োজকদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
source: Daily Amar Desh