ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টায় হাদি হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ তাজুল

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরইমধ্যে ছাত্রলীগ নেতা শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক যুবলীগ নেতা আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। (প্রতিবেদন স্টার নিউজের)
হাদি হত্যায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ডিবি। তদন্তে উঠে আসে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে বাপ্পী পলাতক।
গনমাধ্যমের হাতে পলাতক তাজুল ইসলামের বেশ কিছু নথি এসেছে। তথ্য বলছে, “বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন, চেষ্টা করছেন সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়ার। বাংলাদেশী পাসপোর্টে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী নাম থাকলেও ভারতে মহিউদ্দীন চৌধুরী নামে আধারকার্ড নিয়েছেন। পাসপোর্টে বাবার নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী থাকলেও আধারকার্ডে নাম দিয়েছেন নজরুল উদ্দিন চৌধুরী।”
শুধু তাই নয় তাজুল বদলে ফেলেছেন জন্ম তারিখও। বাংলাদেশী পাসপোর্টে তাজুলের জন্ম তারিখ ৫ জুলাই ১৯৮৩ হলেও ৫ বছর বয়স কমিয়ে ভারতের কাগজপত্রে জন্ম তারিখ দেখিয়েছেন ১৯৮৮ সাল। আর ঠিকানা দেয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার খিদিরপুরের বুখলেস রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের।
বর্তমানে তাজুল কলকাতার দসদ্রমে পূরতী একুয়া, এফ৩ এর খ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকলেও মাঝে মাঝেই তার অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
গনমাধ্যমের হাতে আসা নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভারতে আকরাম আলী ওরফে ভিকি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসা করছেন তাজুল। মূলত ভিকিই তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেয়ার ব্যাপারে সাহায্য করছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ডিবি চার্জশিট দিলেও বাদীপক্ষের নারাজির কারণে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতে আটক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার ড. জসীম উদ্দীন খান বলেন, “আগের তদন্তের অনেক কিছুই এখানে রেলেভেন্ট থাকবে। ফৌজদারি মামলার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রেরণ করতে হলে লোকটার আইডেন্টিফিকেশন অবশ্যই দরকার। সে অন্য জায়গায় গিয়ে যে নামই ধারণ করুক না কেন, এ লোকটা প্রোপারলি সে লোক কিনা এটা আমরা প্রথমে যাচাই করে নেব।”
তাজুলের অপরাধে জড়ানোর বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও ওজন মাপার মেশিনে বোমা রাখার অভিযোগে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন চিহ্নিত অপরাধী চাইলেই কী করে অন্য দেশের নাগরিক হতে পারে?
source: The Dhaka Diary