News

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনি র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাব দিলে খুশি হতাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাব উত্থাপন করলে খুশি হতেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি বিল উত্থাপনকালে নাহিদ ইসলামের বিরোধিতার প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এসআরবি বিল উত্থাপনের জন্য আবেদন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় নাহিদ ইসলাম ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধিতা করেন। এ সময় নাহিদ ইসলাম এসআরবিকে নতুন মোড়কে র‌্যাবের পুনর্গঠন বলে মন্তব্য করেন। পরে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে উত্থাপিত হয়।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল আগস্টের ৮ তারিখ ২০২৪। বিরোধী দলের চীফ হুইপ সেই সরকারের অ্যাডভাইজার ছিলেন। আমি খুশি হতাম এই প্রস্তাবটা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এডভাইজরি বোর্ডে তিনি প্লেস করতেন।

তিনি বলেন, ২০২৬-এর ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই তো হলো। এই র‍্যাব কিন্তু দায়িত্ব পালন করেছে। সেই ১৮ মাসে তাদের একবারও মনে হয়নি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বিলুপ্ত করার? তখন ১৩৩টার স্থলে ১৩৪টা হতো অধ্যাদেশ। সেই অধ্যাদেশ তাহলে আমরা প্রথম অধিবেশনে বিবেচনায় নিতাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। আমরা পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করে দেব? মাথা ব্যথা হয়েছে, মাথা কর্তন করা যায় না। এই পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আজকে কারাগারে আছে। আইসিটি ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে, সেখানে হারুন আছে, বিপ্লব আছে, আরও কি কি যেন আছে, হাবিব আছে—যাদের অনেকের সাজা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বাহিনী তো আছে। এই পুলিশ বাহিনীকে আমরা স্ট্রেন্থেন করছি, মডার্নাইজ করছি। তাদের মোরালি আমরা আরও আপগ্রেড করছি, ওয়েল ইকুইপড করছি, ট্রেইন্ড করছি, সমাজের চাহিদা অনুযায়ী করছি। প্রতিষ্ঠানের কোনো দোষ নয়। প্রতিষ্ঠান যারা চালায়, সেই রাজনৈতিক অথবা মাফিয়া শক্তির দোষ। প্রতিষ্ঠানের দোষ হতে পারে না।

তিনি বলেন, সুতরাং আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল, জনপ্রত্যাশা ছিল র‍্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না, আমরা র‍্যাবটা বিলুপ্ত করছি। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটা এলিট ফোর্স দরকার। বর্তমানে যে সাইবার ক্রাইমগুলো হচ্ছে দেশে, সেটা ফাইট করার জন্য আমাদের যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার। সেটা আমরা করছি, সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটও আমরা একটা রেজ করব সামনে। প্রয়োজন হয়ে গিয়েছে। আমরা জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে ফাইট করার জন্য আমাদের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট দরকার হয়ে গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিবেচনায়, আমরা এই র‍্যাবের সংগঠনটাকে বিলুপ্ত করে একটা এলিট ফোর্স রেজ করছি—যার নাম প্রস্তাব হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।

আমি কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য এই কথাগুলো বলি নাই—উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বলেছি এইজন্য যে গতকালকে যেটা বাস্তবতা ছিল, আজকে সেটা বাস্তবতা ফুরিয়ে যায়নি। গতকালকে যেটা প্রয়োজন ছিল, সেটা আপনারা করেন নাই বলে কি আমরা করব না? আমরা খুশি হতাম একটা অধ্যাদেশ নিয়ে এসে এই নামটা তখন বিলুপ্ত করলে, সংশোধন করলে, তখন তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতো। সেজন্যই বলছি।

তিনি বলেন, যে বাস্তবতার নিরীখে কথা বলুন এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও উন্নত করার জন্য আমাদের যে বিশেষায়িত ফোর্স দরকার, সেই প্রয়োজনীয়তাটা অনুভব করুন। সেই লক্ষ্যেই আমরা এই দুইটা আইন নিয়ে এসেছি আজকে।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button