News
র্যাবের জনবল দিয়ে এসআরবি প্রতিষ্ঠা করায় র্যাবের পুনর্গঠন করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, র্যাব বিলুপ্ত করে তার জনবল দিয়েই আবার এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা— এটা নতুন মোড়কে র্যাবকে নিয়ে আসা। এতে র্যাবের পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থদিন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের সময় এর বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় জোট।
আরও পড়ুন
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি সংসদীয় কমিটিতে দুই কার্যদিবসের পরিবর্তে কার্যদিবস বাড়ানোর দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তক্রমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে যে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন, আমাদের জায়গা থেকে আপনার প্রতি অনুরোধ থাকবে, বিলটি উত্থাপনের অনুমতি যাতে না দেওয়া হয়। আমরা এটার উত্থাপনের বিরোধিতা করছি।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আপনি জানেন যে, এই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নামক প্রতিষ্ঠানটি বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালার (আয়নাঘর) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখানে অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন, যাদের সেই আয়নাঘরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে ও জাতীয়ভাবে বিতর্কিত হয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, এনসিপি বা ১১ দল সবার কিন্তু একটা প্রতিশ্রুতি ছিল, র্যাব আমরা বিলুপ্ত করবো। এমনকি নির্বাচনের আগেও বর্তমান সরকারি দল বিএনপি তারাও কিন্তু প্রেস ব্রিফিং করে বলেছিল, তারা র্যাব বিলুপ্ত করবে। ফ্যাসিবাদী সময়েও তারা বারবার বলেছে, র্যাব তারা বিলুপ্ত করবে। তখন কিন্তু তারা বলেনি যে র্যাব বিলুপ্ত করে র্যাবের মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান তারা নিয়ে আসবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘এই র্যাবে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় যে সামরিক বাহিনীর ব্যক্তিদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; সামরিক বাহিনী ও পুলিশ- দুইটাকেই একটা রাজনীতিকরণ ও নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সুপারিশ এসেছিল, এই র্যাব যাতে বিলুপ্ত করা হয়। ফলে আমাদের মনে হচ্ছে, এই যে র্যাব বিলুপ্ত করে সেই জনবল দিয়েই আবার এসআরবি প্রতিষ্ঠা করছে, এটা নতুন মোড়কে র্যাবটাকে নিয়ে আসা হচ্ছে। র্যাব পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট কেন গঠন প্রয়োজন, সেটা কিন্তু সেই সময়ই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। ফলে আমরা মনে করি, এটা আমাদের ফ্যাসিবাদী সময়ের একটা দাগ, ক্ষতচিহ্ন, আতঙ্ক, ফ্যাসিবাদীর একটা চিহ্ন এই র্যাব। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে বিলুপ্ত করা হোক। পুলিশের বিশেষায়িত যদি কোনও ইউনিট প্রয়োজন হয় সেটা সংসদে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন আছে, সে আলোচনা করে তারপরে এ ধরনের বিল উনি আনতে পারেন। তার আগ পর্যন্ত অনুরোধ থাকবে, এ বিলটি যাতে উত্থাপন করার অনুমতি আপনি না দেন।’
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় বাড়ানোর আহ্বান জানান। সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চার কার্যদিবস সময় চেয়ে বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। সবশেষে বিলটি যাচাই-বাছাইয়ে চার কার্যদিবস সময় দিয়ে স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
source: The Dhaka Diary