ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রতিকূলতা সৃষ্টি করলে জনরোষের হুঁশিয়ারি: গোলাম পরোয়ার

আগামীকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিরোধী দলগুলোর সবচেয়ে বড় এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সরকার, সরকারি দল ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে জোটটি। একই সঙ্গে লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টরা জনগণের আস্থা আরও হারানোর পাশাপাশি জনরোষের মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার বিষয়ে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠিত হলেও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
লংমার্চে বাধা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সরকারের কোনো পক্ষ বা কেউ যদি কর্মসূচিতে প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হতে পারে। সরকার ও সরকারি দলের কেউ এমন অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ নেবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সরকার এ বিষয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, গণভোটের রায়ে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নেই এবং গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্টও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে আমরা একসঙ্গে একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করছি। আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না। জনগণের ও আমাদের দাবি হলো—গণভোটের গণরায় মেনে নিন এবং আমাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করুন।’
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রমাণ এখন দিতে হবে। এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা তাঁরা করছেন না বলেও জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসূচিকে অভিবাদন জানাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।
লংমার্চের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি জানান, বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাই উল্লেখযোগ্য। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, লংমার্চে অংশ নেওয়া ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় অংশ নেবেন না। স্থানীয় শাখাগুলো এসব পথসভা পরিচালনা করবে। বহরের প্রতিটি গাড়িতে নির্ধারিত স্টিকার থাকবে এবং বহর চলমান অবস্থায় কোনো গাড়ি মাঝপথে এতে যুক্ত হতে পারবে না; নতুন গাড়ি বহরের শেষে যুক্ত হবে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমের গাড়িগুলোও বহরের সঙ্গে চলবে।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে দেশবাসী এবং দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
source: Azadir Dak