News

আরেক মোহাম্মদপুর হয়ে উঠছে পল্লবী

রাজধানীর একসময়ের শান্ত আবাসিক এলাকা পল্লবী ক্রমেই অপরাধের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। সন্ধ্যা নামলেই অলিগলিতে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদকের কারবার, অস্ত্রের মহড়া আর আধিপত্য বিস্তার ঘিরে উত্তেজনা; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুন, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি।

সাম্প্রতিককালের অপরাধের রেকর্ড ও মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে—এলাকাটি ধীরে ধীরে সেই চেনা ছাঁচেই ঢুকে পড়ছে, যা রাজধানীর আরেক প্রান্ত মোহাম্মদপুরের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাসের এলাকাটি কি অপরাধ সাম্রাজ্যের পথে এগোচ্ছে?

এ আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুর বাংলা স্কুল এলাকায় পল্লবী ট্রাফিক জোনের এক পুলিশ সদস্যের সন্দেহের বশে থামানো একটি অটোরিকশা থেকে জিম্মি অবস্থায় উদ্ধার হয় অর্ক নামে এক কিশোর। এ ঘটনায় মোহাম্মদ রাব্বি (১৯) নামে একজনকে আটক করা গেলেও তার বাকি তিন সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি শুনতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও পল্লবীর অপরাধচিত্রের সঙ্গে এর মিল অস্বীকার করা কঠিন।

গত কয়েক মাসে এ এলাকায় খুন, প্রকাশ্যে গুলি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের খবর আসছে প্রায় নিয়মিতই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। গত ৭ আগস্ট মিল্লাত ক্যাম্পে সিনেমার স্টাইলে গুলি চালালে এক পথচারী নারীসহ দুজন আহত হওয়ার পর ডিবি ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, এক হাজার ইয়াবা ও দুটি গাড়ি উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই ওই হামলার সূত্রপাত। এর আগে একাধিক মামলার আসামি ‘টান আকাশ’ গ্রেপ্তার, কথিত ‘ভইরা দে’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে পল্লবীর অপরাধচিত্রে বারবার ফিরে আসছে একই সমীকরণ মাদক, অর্থ, অস্ত্র ও আধিপত্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কিশোরদের একটি অংশ।

এসব ঘটনাপ্রবাহ প্রশ্ন হয়ে উঠছে—পল্লবী কি ধীরে ধীরে আরেক মোহাম্মদপুরে পরিণত হচ্ছে? খুন, গুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই কমছে। বরং এসব ঘটনার ভেতর দিয়ে পল্লবীতে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিস্তৃত চিত্রই সামনে আসছে।

শিক্ষক থেকে অবুঝ শিশু হত্যা

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকের একটি বাসা থেকে প্রবীণ স্কুলশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোছনার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন ছিল। অত্যন্ত নৃশংসভাবে প্রবীণ ওই শিক্ষিকাকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার এক মাস পার না হতেই ১৯ মে ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকে ঘটে যায় আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। আট বছর বয়সি রামিসা আক্তারকে পাশবিক যৌন নির্যাতন শেষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও সিআইডির তদন্তে প্রতিবেশী সোহেল রানার নাম উঠে আসে এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

আধিপত্যের রাজনীতি ও প্রকাশ্য গোলাগুলি

গত ২৫ মে বাউনিয়াবাদ এলাকায় প্রভাবশালী চক্রের বাড়ি দখলের চেষ্টায় হামলা ও মারধরের শিকার হয়ে ৭১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়, যা নিয়ে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। জুনে এসে পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গত ১০ জুন ১২ নম্বর সেকশনের এভিনিউ-৫ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ও ‘টান আকাশ’ চক্রের মধ্যে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনসহ ব্যাপক তাণ্ডব চলে। এতে হৃদয় ওরফে গন্ডার নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন এবং আবদুল্লাহ নামে এক তরুণকে অপহরণ করা হয়। ১৬ জুন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ছায়া তদন্ত শেষে ১৬ জুন সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ১৩ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি আকাশ ওরফে ‘টান আকাশ’কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। ১৬ জুন বিহারি পল্লি এলাকায় সিটিটিসি ইউনিটের পৃথক অভিযানে সাত হাজার ইয়াবাসহ সাদ্দাম নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ধরা পড়ে। এরপর ৭ আগস্ট ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পের চা-দোকানে বসে থাকা অবস্থায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে লাল রঙের প্রাইভেটকার থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। আলমগীরের মাথা ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয় এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জ্যোৎস্না নামে এক পথচারী নারীও গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট সাভার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় টানা অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে মূল শুটার রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ এবং তার চার সহযোগী বাপ্পা, মাখন, পারভেজ ও রাব্বিকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও এক হাজার পিস ইয়াবা। ডিবির তদন্তে বেরিয়ে আসে, মাদকের ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি ও এলাকায় আধিপত্যের জেরে ওই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।

রিকশাচালক থেকে ক্যাডার রুবেল

পুলিশ ও স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ২০১১ সালে অতিসাধারণ চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধ জগতে নাম লেখায়। পরে তার নামে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ এক ডজনের বেশি মামলা হয়। কয়েক বছর আগে পল্লবীর ‘ডি’ ব্লকে ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে তার এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও তা ছিল শুধুই ছদ্মবেশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে রুবেলের প্রভাব লাফিয়ে বাড়ে। তার ভাই বাপ্পা কাজ করত পুরো মাদক সিন্ডিকেটের ‘ম্যানেজার’ হিসেবে। পল্লবীর ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প, বাউনিয়া বাঁধ, কাফরুল ও মিরপুর ১০-১১ এলাকা মিলিয়ে দুই শতাধিক গোপন স্পটে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার জোগান দিত তারা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে রুবেল পরে বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রাজত্ব কায়েম করে।

কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি

পল্লবীর নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ তরুণদের অপরাধে ব্যবহার করা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সবশেষ তালিকা অনুযায়ী মহানগরীর ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং রয়েছে ১১৮টি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে। মিরপুর বিভাগের সাত থানায় সক্রিয় ৩২ গ্রুপের মধ্যে শুধু পল্লবী এলাকাতেই রয়েছে ১৪টি। ১৭ জুন পল্লবীর আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’র সদস্য শিশির আহম্মেদ ইমন, আবদুল্লাহ ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পারভেজসহ আরো একাধিক সদস্য ধরা পড়লে গ্রুপটির মোট ১০ জন আইনের আওতায় আসে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছেড়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করত। ৪ জুলাই বাউনিয়াবাদ থেকে ১০ মামলার আসামি ছিনতাইকারী মুন্না ওরফে ‘রেড মুন্না’কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’র পারভেজসহ আরো ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালশী মোড়, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ এলাকায় প্রকাশ্য দিনদুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন প্রায় গা-সওয়া বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জুনে অন্তত তিনবার হাতেনাতে ছিনতাইকারী ধরা পড়ার ঘটনা ঘটে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায়, যার মধ্যে ১৯ জুন কালশী মোড়ে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে মোবাইল টান দিয়ে পালানোর সময় একজনকে আটক করা হয়। ১৮ জুন মিরপুর-১০-এ আরমানকে এবং ১৫ জুলাই বনলতা সুইটসের সামনে রিমন নামে পেশাদার এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। সবশেষ ১ সেপ্টেম্বর রাতে মেট্রোরেলের ২২২ নম্বর পিলারের কাছে অর্ক নামে এক জিম্মি কিশোরকে উদ্ধার এবং রাব্বি নামে এক ছিনতাইকারীকে ধরে পল্লবী ট্রাফিক পুলিশ।

চাঁদাবাজদের দাপট

গত ২২ জুলাই বাউনিয়াবাদ মসজিদ মার্কেট এলাকায় রামদা-চাপাতি নিয়ে দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। এছাড়া বাড়ি নির্মাণ ও জমি বেচাকেনায় বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগও নিয়মিত। জানা গেছে, বিহারি ক্যাম্পের ৩ নম্বর লাইনে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ‘পেপার সানি’কে। আবার লালমাটি টেম্পোস্ট্যান্ডে দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ গৃহবধূ আয়েশা আক্তার প্রাণ হারান। গ্যাং কালচার ও বখরার বলি হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে ফয়সাল ও পাভেল নামে দুই তরুণকেও।

পুলিশের তালিকায় ১৭ স্পট ও ১৭ প্রধান ডিলার

ডিএমপি সদর দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে পল্লবী থানা এলাকায় মাদকের ১৭টি স্পটে ১৭ চিহ্নিত ডিলারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে শতাধিক খুচরা বিক্রেতা। এদের মধ্যে ১১ নম্বর সেকশনে রয়েছে (মিল্লাত ক্যাম্প ও ‘বি’ ব্লক) ডিলার রাজিয়া খাতুন (৪৫) ও নাটা জুম্মন (৩৫)। রাজিয়ার অধীনে অন্তত ১০ জন খুচরা বিক্রেতা কাজ করে। বাউনিয়া বাঁধ এবং ‘এ’ ব্লকে কাজ করে ফাতেমা বেগম ওরফে ফতেহ (৪৩), ১১ নম্বর সেকশনে (‘ডি’ ব্লক ও এডিসি ক্যাম্প) ল্যাংড়া রুবেল (৩৬) ও শাহজামান ওরফে সাবু (৩১), ১২ নম্বর সেকশনে (পূর্ব কুর্মিটোলা ও শাহ পরান বস্তি) রয়েছে শাহনাজ (৪৪), হালিমা ওরফে নাজ খাতুন (২৬) ও রুমা (৪৩)। এছাড়া চিহ্নিত অন্যান্য স্পটে লাভলি বেগম (৫১), নাদিম (৩৯), জুম্মন (৬০), বট রনি (৩২), রজনী আক্তার (৩০), শারমিন (৩১), শাহিনুর (৩১), বিনা সুন্দরী (৫৫) ও আফসানা ওরফে পুতুল (৩৫) মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে।

মিল্লাত ক্যাম্পের গোলকধাঁধার মতো সরু গলিতে প্রতিদিন বিকালে জমে ওঠে মাদকের বাজার। ক্রেতারা সেখানে ‘বান্ধা কাস্টমার’ নামে পরিচিত। এমনকি কালশী মোড়ের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকা বিক্রেতারা চোখের ইশারায় পথচারীদের কাছে ইয়াবা বিক্রির প্রস্তাব দেয়। মে মাসেই পল্লবীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই দফায় ৫২ অপরাধী গ্রেপ্তার হয়। তবে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা পুনরায় একই পেশায় যোগ দেয়।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ

গত ২৯ আগস্ট পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পে লাশ গোসলের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পানির পাম্প বসানো নিয়ে বিরোধ থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি মাদকচক্রের সংঘর্ষ নয়, এটি ভিন্ন ধরনের বিরোধ। তবু পল্লবীতে সামান্য বিরোধও কীভাবে দ্রুত সংঘাতে রূপ নিতে পারেÑতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে আছে এটি।

পল্লবীর এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে মনে করিয়ে দেয় মোহাম্মদপুরের সাম্প্রতিক ইতিহাস, যেখানে ছয় হাজারের বেশি অপরাধীর তথ্য নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। মোহাম্মদপুরের সঙ্গে পল্লবীর তুলনা করার কারণ হচ্ছে—দুই এলাকাতেই খুন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।

ডিএমপির তালিকায় মোহাম্মদপুরে ১৬ আর পল্লবীতে ১৪টি কিশোর গ্যাং থাকার তথ্যও সে তুলনাকে আরো জোরালো করে।

এলাকাবাসী বলছেন, পল্লবীর সাড়ে চার লাখ বাসিন্দার নিরাপত্তায় শুধু সাময়িক টহল বা দু-একজন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। পল্লবীকে দ্বিতীয় ‘মোহাম্মদপুর’ হওয়া থেকে রক্ষা করতে মাদক ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অবিলম্বে যৌথবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি চিরুনি অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, পল্লবীর ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে তিনটি স্তর চোখে পড়ে। প্রথমত, অর্থের উৎস মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংগঠনের কাঠামো কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ। তৃতীয়ত, প্রভাব বিস্তারের উপকরণ, অস্ত্র, ভয়ভীতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্য সহিংসতা। এ তিনটি স্তর যখন একই এলাকায় বারবার দেখা যায়, তখন অপরাধকে শুধু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে ঠিকই; কিন্তু অর্থের উৎস ও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া না গেলে একই বৃত্ত ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেখানেই অপরাধ ঘটছে, দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজধানীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button