ডেমরায় পরিবহন ও ফুটপাতে জিম্মিদশা: নেপথ্যে সাবেক বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লাহ

ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনের সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর বিরুদ্ধে পুরো ডেমরা থানা এলাকায় বিস্তৃত চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডেমরা থানা বিএনপির বহিষ্কৃত ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অবৈধ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ্যে এনেছেন।
দীর্ঘদিন নবী উল্লাহ নবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার কারণে তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো নির্ভুল বলে দাবি করেছেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গণপরিবহন, ফুটপাত, গার্মেন্টস, নদীঘাট দখল এবং এমনকি মাদক কারবার থেকেও নিয়মিত চাঁদার ভাগ পৌঁছাত নবী উল্লাহর পকেটে। এই পুরো চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করছেন তাঁর জামাতা ফেরদৌস হোসেন রনিসহ কয়েকজন বিশ্বস্ত সহযোগী।
পরিবহন খাতের তালিকায় দেখা যায়, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার লেগুনা স্ট্যান্ড ও অছিম পরিবহন থেকে শিপন ও জামাতা রনির মাধ্যমে চাঁদা তুলতেন নবী উল্লাহ। এছাড়া বাহাদুর শাহ পরিবহন থেকে শিপন; আলিফ ও আসমানী পরিবহন এবং স্টাফ কোয়ার্টার ফুটপাতের হকারদের থেকে রফিক; রাজধানী পরিবহন থেকে মাসুদ রানা এবং সাইনবোর্ড এলাকার হকারদের থেকে আজিজ, সাদু ও রনির মাধ্যমে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হতো।
শুধু পরিবহন খাতই নয়, অবৈধ দখলাদারি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানেও জিম্মিদশা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর নিয়ন্ত্রণ হযরত আলী হাজী ও রনির হাতে এবং ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি দখল ও চাঁদাবাজি মাসুদ রানা ও রনির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পাশাপাশি স্টাফ কোয়ার্টারের উর্মী গার্মেন্টস থেকেও জামাতা রনি ও আজিজের মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এলাকাভিত্তিক মাদক ব্যবসা থেকে টাকা তোলার বিষয়ে। তথ্যানুযায়ী, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল; ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদ রানা ও রনি এবং ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকাশ, আল-আমিন ও তোফাজ্জলের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের থেকে নিয়মিত চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে নবী উল্লাহ নবীর কাছে পৌঁছানো হতো। এই চাঁদার ভাগের বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের জেরেই সার্বিক বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
source: Azadir Dak