News

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে ডাকাতি, মারধর করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এক সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও দুই পুরুষ সদস্যের হাত-পা বেঁধে রেখে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা এক পুরুষ সদস্যকে মারধরের পাশাপাশি প্রায় নগদ দেড় লাখ টাকা ও সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

একই সময় ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পথে ডাকাত দলের সদস্যদের দেখে ফেলায় শাহ আলম নামের এক যুবককে জিম্মি করা হয়। এ ছাড়াও ওই বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের বাবা মাওলানা আহমদ রশিদের পাশাপাশি দুটি বাড়ি রয়েছে। একটি বাড়িতে বড় ও মেজো ছেলে এবং অপর একটি বাড়িতে তিনি ও অন্যান্য ছেলেরা বসবাস করেন। মাওলানা রশিদ বলেন, সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে সিঁড়ি দিয়ে নিচের তলায় প্রবেশ করেন। এরপর তারা ভেতর থেকে বাড়ির প্রধান গেইট খুলে দিলে প্রায় ৮ জনের একটি দল প্রবেশ করে প্রথমে বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে তারা রফিকের হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তার স্ত্রী নুসরাত সুলতানা পিংকির আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও রফিকের ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা মেজো ছেলে শহিদুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে তার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তার ব্যবসার ৯০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী শাহীন আক্তারের প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন।

তিনি আরও বলেন, একটি কালো মাইক্রোবাস ও একটি কারযোগে ডাকাত দলের সদস্যরা আমাদের এলাকায় প্রবেশ করেছিল। ওই সময় আমাদের এলাকার যুবক শাহ আলমকেও তারা জিম্মি করেন। মূলত তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ডাকাত দলের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যাওয়ার ফলে তাকেও জিম্মি করে আমাদের বাড়ির এক কোনায় বসিয়ে রাখা হয়। তারা যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি সর্বমোট ৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে বাড়ির উঠানে ৩টি মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেও একটি পাওয়া যায়নি।

গৃহবধূ শাহীন আক্তার বলেন, অস্ত্রধারী ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে আমাদের সবাইকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। তারা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আমার ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও আমার স্বামীর হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এ ছাড়াও তারা আমার অসুস্থ ভাসুরকেও মারধর করেছে।

সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রধারী ডাকাত দলের সদস্য আমার ভাইদের বাড়িতে ঢুকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় আমরা পার্শ্ববর্তী অপর বাড়িতে থাকলেও কিছুই বুঝতে পারেনি। দ্রুত ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাংবাদিক জাহেদ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button