সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে রাষ্ট্রপতিকে স্বাক্ষর না করার আহ্বান রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাসকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে সরাসরি ‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তাতে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছে রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশ।
দেশের উলামায়ে কেরামদের এ সংগঠনটি বলছে, ‘সরাসরি কুরআন-সুন্নাহবিরোধী এ আইনটি পাস করে ৯১ ভাগ মুসলমানের এই দেশে, বর্তমান সরকার আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এটি সরাসরি কুরআন হাদীস তথা ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা হামিদুর রশিদ জামিলের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করা হয়। বিবৃতিতে ১০ জন আলেম স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “কুরআন বিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অর্থাৎ নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমনভাবে সম্পতি দান করা যাবে, যাতে দাতা তাঁর জীবদ্দশায় ঐ সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন।” সরাসরি কুরআন সুন্নাহ বিরোধী এ আইনটি পাস করে ৯১ ভাগ মুসলমানের এই দেশে, বর্তমান সরকার আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এটি সরাসরি কুরআন হাদীস তথা ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।”
বিবৃতিতে কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো:
১. হেবা তথা দানের ক্ষেত্রে দানকারী দানীয় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার- এটা দ্বারা মূলত মরনের পরে যেহেতু দেওয়া হচ্ছে সেহেতু এটা “মিরাসী সম্পত্তি বোঝায়”। অপরদিকে মিরাসী সম্পত্তি আল্লাহতালা কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ারিশগণ নির্ধারিত অংশ পাবেন এখানে ইন্টারফেয়ার করার কোন সুযোগ নেই।
২. দ্বিতীয়ত: হেবা করার পর উক্ত দানীয় সম্পদ দাতা কর্তৃক ভোগ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বরং বোখারী মুসলিম শরীফসহ সহি হাদিসের কিতাবে বলা হয়েছে:”দান করে ওই সম্পদ যদি কেউ ফেরত নেয় তাহলে সে ঐ কুকুর যে কুকুর নিজের বমি নিজে খায়”
৩. ওয়াসিয়াতের ক্ষেত্রে একটি সীমা ঠিক করে দেওয়া আছে যে, ক.সর্বোচ্চ এক তৃতীয় অংশ ওসিহত করতে পারবেন। খ. ওয়ারিসদের কে ওসিহত করা যাবে না। সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে: “মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব কোন ওয়ারিসের জন্য ওসিয়াত করা যাবে না।”
এতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম এবং মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তির হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা, মিরাস ও ওসিয়াতের বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সম্পত্তি দানসংক্রান্ত নতুন কোনো আইন বা বিধান প্রণয়নের সময় ইসলামী শরিয়াহর প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ব্যবস্থা ইসলামী আইনের হেবা (দান), মিরাস (উত্তরাধিকার) এবং ওসিয়াত— এই তিনটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থার মধ্যকার সীমারেখা ও শর্তাবলির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহগত প্রশ্নের উদ্রেক করে। অতএব, আইনটি বাতিল করে দেশের স্বীকৃত মুফতি, ইসলামি আইনবিশেষজ্ঞ, মুসলিম পারিবারিক আইনবিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট আলেমদের সমন্বয়ে এর বিস্তারিত শরিয়াহ পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম মনে করেন। বিষয়টির ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, পারিবারিক সম্পত্তির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বিধানটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পুনঃপর্যালোচনা করা জরুরি।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন-
১.মাওলানা মাহমুদুল হাসান হাশেমী
২.মাওলানা শাঈখ হাসান মাহফুজ
৩.মাওলানা মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক
৪.মাওলানা ইমরান মাহমুদ
৫.মাওলানা লুতফুর রহমান ভুঁইয়া
৬.মাওলানা রবিউল হাসান
৭.মাওলানা ইসমাইল হুসাইন
৮.মাওলানা হামিদুর রশিদ জামিল
৯.মাওলানা হোসাইন আহমাদ জুবায়ের
১০.মাওলানা আহমাদ আব্দুল্লাহ।
source: The Dhaka Diary