মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল ‘মাদকসেবন’র দায়ে কারাগারে

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) চাকরির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকা বরগুনায় মাদক সরবরাহের অভিযোগে রুবেল হোসেন নামে এক কনস্টেবলকে আটক করেছে তাঁর নিজ বিভাগের সদস্যরা। পরবর্তীতে হাসপাতালে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত রুবেল হোসেন বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেলের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক মাদক কারবারিদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও মাদক সরবরাহের অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিনের নজরদারি ও অনুসন্ধানের পর অভিযোগের সত্যতা পায় সংস্থাটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরগুনায় আসার খবরে বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকায় চেকপোস্ট বসায় ডিএনসি। অভিযান টের পেয়ে হাত থাকা একটি ছোট ব্যাগ ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে রুবেলকে আটক করা হয়। ব্যাগটিতে ইয়াবা ছিল বলে সন্দেহ করা হলেও তল্লাশিতে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল নিজের ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন। এরপর সোমবার সকালে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট এলে তাঁকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র চার বছরের চাকরি জীবনে বরগুনা ও বরিশালে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন রুবেল ও তাঁর পরিবার। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে।
source: Azadir Dak