‘প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েছিলাম, উনি রাজি হননি নাকি আমলারা হতে দেয়নি জানিনা’

নিরাপদ খাদ্য ধ্বংস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতপ্রার্থী হয়েছিলাম উনি রাজি হননি নাকি আমলারা হতে দেয়নি সঠিক জানিনা, এমন মন্তব্য করেছেন রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব কবির মিলন।
তিনি বলেছেন, ‘বেশ কয়েকমাস আগে বোতলজাত ৮ টি ব্যান্ড কোম্পানির পানিতে পিফাস পেয়েছিল শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায়। পত্রপত্রিকায় খুব একটা ওঠেনি এই বিষয়টা। মিডিয়ার লোকজনেরও তো সংসার চালাতে হয়। তাই আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরকালে দেখা যাবে সেটা।’
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, “ফুটপাতে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটতে গিয়ে দেখলাম, অসংখ্য দোকানের সামনে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বোতলজাত পানি রেখে দেয়া হয়েছে। এমন নয় যে, প্রতিদিন সব বোতল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিগুলো কি পরীক্ষা করে দেখেছে, পানিসহ এইসব বোতল প্রচণ্ড রোদে দিনের পর দিন রেখে দিলে গরমে প্লাস্টিকের বোতল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ন্যানো-প্লাস্টিক রিলিজ হয়ে পানির সাথে মিশে যাচ্ছে কিনা। প্লাস্টিকের বোতল গরম প্রুফ এবং ফুড গ্রেড কতটা?
তিনি বলেন, “বেশ কয়েকমাস আগে বোতলজাত ৮ টি ব্যান্ড কোম্পানির পানিতে PFAS পেয়েছিল শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায়। পত্রপত্রিকায় খুব একটা ওঠেনি এই বিষয়টা। মিডিয়ার লোকজনেরও তো সংসার চালাতে হয়। তাই আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরকালে দেখা যাবে সেটা। আর ঢাকা ওয়াসার পানিতে পিফাস এবং কীটনাশক রেসিডিউ পাওয়ার বিষয়েও মোটামুটি গায়েব।”
মাহবুুব কবির মিলন আরও বলেন, “বিএসটিআইয়ের কথা আর এখানে আনতে চাইনা। ওনারা খুব ক্ষেপে আছে আমার উপর। কিন্তু অনেক কিছু বলা দরকার। কার কাছে বলব, কোথায় যাব। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতপ্রার্থী হয়েছিলাম। উনি জেনেই রাজী হননি, নাকি আমলারা হতে দেয়নি, জানি না। আমার কোনো ঠেকা নেই। আল্লাহপাক সব জানেন। কিন্তু এই জাতিকে ভুগতেই হবে নিশ্চিত। আফসোস হয় বাচ্চাদের জন্য। ওরা জানেই না, জন্মেই ওরা পাপ করে ফেলেছে আজন্মের।”
নিরাপদ খাদ্য ধ্বংসের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এ সমস্যা নিয়ে ২০ মিনিট কথা বলতে তার সাক্ষাৎ কামনা করেছিলেন। সেসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, এই ফুড সেইফটি ধ্বংস করার জন্য তারা (সরকারি কর্মকর্তারা) কতটা দায়ী এবং কতটা ব্যর্থ।’ চলতি বছরের ২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি কৃষি, প্রাণী, মৎস্য, বিএসটিআই এবং ফুড সেইফটি অথোরিটি-কে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে কিছু উত্তর নিয়েছি। তাদের সবার স্বাক্ষর করা অফিসিয়াল কাগজ। নিরাপদ খাদ্য ধ্বংসের জন্য অন্যতম দায়ী সরকারি কর্মকর্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, এই ফুড সেইফটি ধ্বংস করার জন্য তারা কতটা দায়ী এবং কতটা ব্যর্থ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার যথেষ্ট কাজ করা যায় মাত্র এক বছরেই। মাত্র এক বছরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী আমি। মাত্র ২০ মিনিট সময় দিন অনুগ্রহ করে। প্লিজ।’
source: The Dhaka Diary