News

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন পাকিস্তানের সাবেক সেনা কর্মকর্তা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। রিয়াদে অবস্থিত জোটের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং ২০২৩ সালে অবসরে যান। তিনি ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির (এনডিইউ) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পবিত্র মক্কা নগরীতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন। এর ফলে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি সৌদি আরব, ন্যাটোর প্রভাবশালী সদস্য তুরস্ক এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটকে ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত কৌশলগত ও ভারসাম্য পরিবর্তনকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

এই চুক্তিটির মূল ভিত্তি ন্যাটোর ঐতিহাসিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের নীতির সঙ্গে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, চুক্তি অনুযায়ী জোটভুক্ত কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে, তা পুরো জোট তথা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। যৌথভাবে নিরাপত্তা রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি বিধান ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিই এর অন্যতম লক্ষ্য।

সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি এই জোটের আওতায় তিনটি দেশই নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা, অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং আধুনিক অস্ত্র সামগ্রী যৌথভাবে উৎপাদনে পরস্পরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকি, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের এই যৌথ উদ্যোগ এক নতুন সামরিক অক্ষের জন্ম দিয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button