প্রধানমন্ত্রী ছাড়া যিনি উঠতে, বসতে কিংবা শুতে পারেন না, এমন রাষ্ট্রপতি আমরা চাই না: মামুনুল হক

নরসিংদীতে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে ভিনদেশি স্বার্থান্বেষী চক্রের হাতে তুলে দিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পলাশ উপজেলা শাখার আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া যিনি উঠতে, বসতে কিংবা শুতে পারেন না, এমন রাষ্ট্রপতি আমরা চাই না। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ থাকবে না। জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠিত হলে বিচারব্যবস্থায় দলীয় প্রভাব কমবে এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, অতীতে দলীয় সরকারের আজ্ঞাবহ বিচারপতিদের মাধ্যমে জনগণের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। গণভোটের রায় অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ হলে খায়রুল হকের মতো বিচারপতিরা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবেন না। কিন্তু বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ হবে। অতীতের সরকারের আমলে প্রশাসন জনগণের সেবক না হয়ে আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশকে কাজ করতে হবে, সরকারের অনুগত বাহিনী হিসেবে নয়। বিএনপি, যুবদল কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নামে পুলিশ বাহিনী দেখতে চায় না দেশের মানুষ।
দেশের জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু দলীয়করণ নয়, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ বাংলাদেশের পুরো এনার্জি সেক্টরকে দেশবিরোধী ভিনদেশি দালাল চক্রের হাতে তুলে দিয়ে অর্থনীতি ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। সর্বত্র টেন্ডারবাজি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পলাশ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি ফারুক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ শেরপুরী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর নুর, সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হক ভূঁইয়া, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং ঘোড়াশাল পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইসমাইল খায়েরীসহ অন্যরা।
source: Barta Bazar