News

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, পরিচয় জানতে চিঠি সরকারের

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব© সংগৃহীত
সৌদি আরবে মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও তাদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ সরকার। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালত সাজা দিয়ে থাকেন।
 
শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি মিশনের শ্রম উইং থেকে পাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, ওই দুই বাংলাদেশি মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আইনে এ ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নথি বা বিস্তারিত তথ্য এখনো পায়নি বাংলাদেশ।
 
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিষয়টি ওই মন্ত্রণালয় দেখভাল করে। সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
 
এদিকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তিন দিন পরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
 
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো তার জবাব পাওয়া যায়নি। ‘নোট ভার্বাল’ হলো এক দেশের সরকারের পক্ষ থেকে অন্য দেশের সরকারের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা।
 
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় যাচাইয়ের কাজ করছে বাংলাদেশ মিশন।
 
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। গত বুধবার মক্কা অঞ্চলে এ দণ্ড কার্যকর করা হয়।
 
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধের গুরুত্ব এবং মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাজির হলো এমন শাস্তি, যার ধরন নির্ধারণে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ থাকে। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল, কখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয় কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া কত দিন ধরে চলেছে—এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তারা আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তাদের পরিবারকে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং তারা বাংলাদেশি কনস্যুলেটের সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
 
ঘটনাটি নিয়ে কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—দুই দেশই এই কনভেনশনের পক্ষভুক্ত।
 
কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদের ‘ক’ উপধারায় কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলার কার্যালয়কে দ্রুত জানানোর বিধান রয়েছে। অন্যদিকে ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিক আটক হলে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার অধিকার নিয়ে বিধান রয়েছে।
 
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কনস্যুলেটকে অবশ্যই জানাতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা কনভেনশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে জানানো হয়েছিল কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না। তাদের আইনি অধিকার, বিচারপ্রক্রিয়া ও কনস্যুলার সহায়তার বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য পেতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
 
কীওয়ার্ড: সৌদিআরব, মৃত্যুদণ্ড, বাংলাদেশি, শামাওবায়েদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেদ্দা, কনস্যুলেট, ভিয়েনাকনভেনশন

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button