News

সিরিয়ার নৌবাহিনী শক্তিশালী করতে তুরস্কের উদ্যোগ

দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে দেশটির সামরিক উপস্থিতি জোরদারে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক। সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর লাতাকিয়া সফর করেছেন তুর্কি নৌবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধি দল। সফরকালে সিরিয়ার নৌবাহিনীর বিদ্যমান যুদ্ধজাহাজ মেরামত, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে আধুনিকায়ন, নতুন নৌযান নির্মাণ এবং নৌসদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়ে আঙ্কারা ও দামেস্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইস্তাম্বুল শিপইয়ার্ডের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এরদিনচ ইয়েতকিন, নৌবাহিনীর লজিস্টিকস প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল তিমুর ইলমাজ এবং নৌ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউজেল দারজান। এ ছাড়া তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএসএফএটির (ASFAT) প্রতিনিধিরাও এই সফর ও আলোচনায় সরাসরি অংশ নেন।

সফরকালে তুর্কি প্রতিনিধি দল লাতাকিয়ার সামরিক ও নৌ অবকাঠামো সরাসরি পরিদর্শন করেন। বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল সিরীয় নৌবাহিনীর পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজগুলোর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে যৌথ উদ্যোগে নতুন নৌযান তৈরি করা। পাশাপাশি সিরীয় নৌসদস্যদের কৌশলগত ও সামরিক দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং লাতাকিয়া সামরিক বন্দরের আধুনিকায়নে একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ার সামরিক অবকাঠামো ও নৌ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছিল। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আঙ্কারার এই সরাসরি সহায়তা দামেস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে ও সীমান্ত নিরাপত্তায় লাতাকিয়া বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি দুই দেশের সামুদ্রিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

অবশ্য প্রস্তাবিত এই সামরিক সহযোগিতার নির্দিষ্ট বাজেট, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে কোন কোন যুদ্ধজাহাজ আধুনিকায়ন করা হবে—সে বিষয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, দুই দেশের সুদীর্ঘ কূটনৈতিক বরফ গলার পর চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এরজুমেন্ট তাতলিওলুর নেতৃত্বে একটি তুর্কি যুদ্ধজাহাজ লাতাকিয়া বন্দরে নোঙর করেছিল। ২০১১ সালে সিরীয় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল সিরিয়ার মাটিতে কোনো তুর্কি নৌযানের প্রথম ঐতিহাসিক আগমন। বর্তমান উচ্চপর্যায়ের এই সফর মূলত ভূমধ্যসাগরে দুই মেরুর সামরিক মিত্রতারই এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button