News

বাংলাদেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি: রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী© সংগৃহীত
বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তে বাংলা ভাষার প্রচলিত রূপ বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা এ দেশের মানুষের রয়েছে।
 
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতিতে পরিকল্পিতভাবে নতুন কিছু শব্দ যুক্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শব্দ বাদ দিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন শব্দ ব্যবহারের প্রবণতাকে তিনি সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, খুন, রক্ত ও লাশের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহারের সূক্ষ্ম চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।
 
তিনি আরও বলেন, “এ জাতির সংগ্রাম ও ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। তাই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার অভ্যন্তরীণ শক্তি এ দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে।”
 
আরও পড়ুন
 
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ সামগ্রিক অর্থে পূর্ণাঙ্গ নবজাগরণ ছিল না। তার মতে, এটি মূলত হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছিল। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
রিজভী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটকালে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। তার দাবি, অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক পরিচিত বুদ্ধিজীবী অবস্থান নিয়েছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও অনেকে নিখোঁজ, গুম ও ভোটাধিকার হরণের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। অন্যদিকে, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য তুলে ধরেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র হয়ে দেশীয় সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী। তার মতে, এ ধরনের আয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে এবং দেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
 
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।
 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ড. মুস্তাফা মজিদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, চিত্রনায়ক হেলাল খান, বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান, সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু, মো. আবু হোরায়রা ও পারভীন সুলতানা রাব্বী।
 
সেমিনারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button