Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

ট্রাম্পের তিন মাসের অবরোধে তেল শূন্য কিউবা, আজ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সকল ধরনের বিদ্যুৎ সরবরাহ

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গ্রিড পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। এর ফলে গত সোমবার থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন তেল অবরোধে দ্বীপ রাষ্ট্রটির পুরোনো ও দুর্বল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশটির বিদ্যুৎ সংস্থা 'ইউএনই' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ব্ল্যাকআউটের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউবায় কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহান্তে কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটিতে সহিংস বিক্ষোভও হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে গ্রিড ধসে পড়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সঞ্চালন লাইনের সমস্যাই এর পেছনে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ছোট ছোট সার্কিট বা 'মাইক্রোসিস্টেমে' বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে, যা পুরো গ্রিড সচল করার প্রাথমিক ধাপ।

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কিউবাকে তেল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। এতে করে ক্যারিবীয় এই দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলেও জানিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবা পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে তারা আগ্রহী।

তেল সংকট হোক বা যান্ত্রিক ত্রুটি—দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন কিউবার মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। হাভানার ২৬ বছর বয়সী বাসিন্দা দায়ানা মাচিন বলেন, এই পরিস্থিতি তাকে আর অবাক করে না; বরং মানুষ ধীরে ধীরে এর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। তিনি জানান, অনেকেই এখন গ্রিড বিদ্যুতের বিকল্প খুঁজছেন।

রয়টার্সের দেখা 'এলএসইজি' শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে কিউবায় মাত্র দুটি ছোট তেলবাহী জাহাজ পৌঁছেছে—একটি জানুয়ারিতে মেক্সিকো থেকে এবং অন্যটি ফেব্রুয়ারিতে জ্যামাইকা থেকে এলপিজি নিয়ে। একসময় প্রধান সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা এ বছর কোনো জ্বালানি পাঠায়নি। এমনকি 'পিডিভিএসএ' একটি ট্যাংকারে গ্যাসোলিন লোড করলেও সেটি দেশ ছাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মেক্সিকোও তেল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। স্যাটেলাইট তথ্য বলছে, মাতানজাস, মোয়া, হাভানা ও সিয়েনফুয়েগোস বন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো জ্বালানি আমদানি হয়নি।

এর মধ্যেই নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে একটি ভূমিকম্প। কিউবার উপকূলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, এটি পূর্বাঞ্চলের মাইসি এলাকার কাছাকাছি ১১.৬ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলেই জানানো হয়েছে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedeltalens.com

Back to top button