ইরানের চোখ এড়িয়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু দুর্গম পাহাড়ে চূড়ায় লুকিয়ে ছিলো সেই মার্কিন পাইলট

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরানের আঘাতে দেশটিতে আছড়ে পড়া এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ইরানের নিয়ন্ত্রিত এলাকার ভেতরে, পাহাড়ের ফাঁক-ফোকরে একা লুকিয়ে ছিলেন। তার একটাই লক্ষ্য ছিল, বেঁচে থাকা এবং ইরানের চোখ এড়িয়ে চলা। এক প্রতিবেদনে সিএনএন সেই বর্ণনা দিয়েছে।
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত হওয়া সেই যুদ্ধবিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার এক দিনেরও বেশি সময় ধরে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়া থেকে বেঁচে যান। এসময় তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতার দুর্গম পাহাড়ি চূড়ায় পৌঁছে যান। তার কাছে ছিল শুধু একটি পিস্তল, একটি যোগাযোগযন্ত্র এবং একটি ট্র্যাকিং যন্ত্র।
শেষমেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর একটি দল, আকাশ থেকে বোমা হামলার সহায়তায় এলাকা নিরাপদ করে ওই কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করে এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনে।
মার্কিন দুই কর্মকর্তা পরে এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের বিস্তারিত জানান। তারা বলেন, এতে শত শত মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্য অংশ নেন। অভিযানে বিশেষ বাহিনী সরাসরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে এবং সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) আগে থেকেই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সম্ভাব্য ইরানি অনুসন্ধানকে ভিন্ন পথে নেয়ার চেষ্টা চালায়।
অভিযান চলাকালে একাধিক নাটকীয় পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশেষ অপারেশন বিমান ইরানের মাটিতেই ধ্বংস করে দিতে হয়, যাতে সেগুলো শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে ইসফাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পোড়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। ফুটেজে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপ এবং ইঞ্জিনের অংশবিশেষও দেখা যায়। তবে এগুলো কোন ধরনের বিমান বা কার মালিকানাধীন, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও ওই এলাকায় একটি ছোট রানওয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া একটি ইসরায়েলি সূত্র জানায়, উদ্ধার অভিযানে বাধা এড়াতে ইসরায়েল তাদের কিছু পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করে এবং গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করে।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com

