Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

জাতীয় নির্বাচনে শিবিরের সাফল্য কাজে লাগাতে চায় জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ছাত্ররাজনীতিতে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের স্পষ্ট আধিপত্য আবারও আলোচনায় এসেছে। পর পর দেশের সবচেয়ে বড় ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির ভূমিধস বিজয় লাভ করে।

সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে যে ‘শিবির প্রভাব’ তৈরি হয়েছে, সেটিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগানোর কৌশল নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত তাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়। এর আগে গত অক্টোবরে প্রথম দফায় কমিটিটি গঠিত হয়েছিল।

শিবিরের সাবেক নেতাদের বাড়তি গুরুত্ব

পুনর্গঠিত কমিটিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী একাধিক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কয়েকজন সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ও পূর্ববর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ছাত্রনেতাদেরও কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিরাজুল ইসলামসহ, ২০২৩ থেকে পরবর্তী ৩ বছরে দায়িত্বে থাকা রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম-এই চারজনকেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সাম্প্রতিক পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা শিবিরের প্রার্থীদের প্রতি আস্থা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতেই শিবিরের সাবেক নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সদ্য বিদায়ী শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইসলাম ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ের ইস্যুতে সহযোগিতার কথা বলা আছে। সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতৃত্বের পক্ষে মাঠে থাকবে শিবিরের নেতাকর্মীরা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনে দেশের তরুণ সমাজসহ সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা করছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে। এই বার্তা যেন জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট বাক্সে পৌঁছায়- সে লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য প্রয়োজন।

আতিকুর রহমান জানান, জামায়াতের নির্বাচনী ভাবনায় যুব ও শ্রমিক সমাজের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে সামনে রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতে সংগঠনের কর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুমকে আহ্বায়ক এবং মাওলানা আব্দুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, মোবারক হোসাইন, এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও এডভোকেট আতিকুর রহমান, যারা পূর্বে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

এ ছাড়া সাবেক আমলাদের মধ্যে খন্দকার রাশেদুল হক, মু. সফিউল্লাহ, আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মোস্তফা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সফিকুল ইসলাম ও মেজর (অব.) মুহাম্মদ ইউনুস আলী শাহজাহান-কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: bartabazar.com

Back to top button