Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

নির্বাচন ভণ্ডুলে মাঠে নেমেছে নয়াদিল্লি, গোপন তথ্য ফাঁস

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঝুঁকিতে ফেলা তথা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার মতো মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে দিল্লি। দিল্লির ডিপ স্টেট ও নীতিনির্ধারকদের মূল টার্গেট এখন গণভোট। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য করার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট হতে যাচ্ছে তা যেন অনুমোদিত না হয় সেই লক্ষ্যেই এখন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দিল্লি। ভারত সরকারের এই অপতৎপরতা সম্পর্কে অবগত একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে মাঠে নামানোর চেষ্টা দিল্লির এই প্রচেষ্টারই অংশ।

গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতায় নেমেছে দিল্লির নীতি-নির্ধারকরা। হাসিনা তার অডিও বার্তায় দলের নেতাকর্মীদের আসন্ন নির্বাচন বয়কটের পাশাপাশি নির্বাচন প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে রীতিমতো সন্ত্রাস উসকে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির প্রতিবাদে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৩ জানুয়ারি দেওয়া হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ও আসন্ন নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য দিল্লির এই তৎপরতা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত রীতিমতো উদ্বিগ্ন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। তাদের বিশ্বস্ত জাতীয় পার্টির অবস্থাও একেবারেই নাজুক। বিএনপিকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারছে না ভারতের নীতি-নির্ধারকরা। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামী দলগুলোর জোটের নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দিল্লির ডিপ স্টেটের উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন ভণ্ডুল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে ভারত।

দিল্লিতে গত শুক্রবার মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন, সেখানে শেখ হাসিনাকে দিয়ে অডিও বক্তব্য প্রচারসহ সবকিছুর নেপথ্যে ভারতীয় ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি কাজ করেছে বলে দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে। ফরেন করেসপন্ডেন্স ক্লাব অব সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবের ব্যানারে দিল্লিতে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি মূলত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাই সরাসরি তদারকি করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে আনার ব্যাপারে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠক করেছে। তবে তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে দৃশ্যমান মতভেদ ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং মতবিনিময়ে উপস্থিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, সাবেক কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। তবে শেষপর্যন্ত তা হয়নি। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা একটি ইংরেজি অডিও বার্তা প্রচার করা হয়। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও শেখ হাসিনার একটি বার্তা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কারিগরি সমস্যার কথা জানিয়ে ওই অডিও বার্তাটি প্রচার করা হয়নি বলে ওই কূটনৈতিক সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে। বাংলায় রেকর্ড করা অডিও বার্তাটি ছিল অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা তার অডিও বার্তায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে খুনি, ফ্যাসিস্ট, সুদখোর, ক্ষমতালোভী, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও সম্পদ বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলে উল্লেখ করেছেন।

শেখ হাসিনাকে মাঠে নামানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে দিল্লির একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, ফরেন করেসপন্ডেন্স ক্লাব অব সাউথ এশিয়াকে সামনে রেখে যা করা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এই ধরনের অনুষ্ঠান অতীতে কখনো হয়নি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী নির্বাচন ও গণভোটকে ব্যাহত করা। দিল্লির নীতি-নির্ধারকরা কোনোভাবেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মেনে নিতে পারেনি। ড. ইউনূসকে চাপে ফেলতে দিল্লির এটাই শেষ প্রচেষ্টা। দিল্লির নীতি-নির্ধারকরা চাইছে গণভোটে যেন ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয়। তাই গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে নানা ধরনের তৎপরতা শুরু করেছে দিল্লি। তাদের বিশ্বস্ত জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গণভোটে যদি কোনোভাবে ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে শেষ মুহূর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটা শিক্ষা দেওয়া যাবে বলে মনে করছে ভারত। তারা আরো চাইছে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভোটের হার যেন ৫০ শতাংশের নিচে থাকে। আর এটা হলে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে অন্তত বলা যাবে আওয়ামী লীগকে ছাড়া এই নির্বাচনে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অংশ নেয়নি।

ওই কূটনৈতিক সূত্রগুলো আমার দেশকে আরো জানিয়েছে, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে এই মাঠে নামানোর পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন থিংক ট্যাংক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে অনিশ্চয়তায় ফেলার পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেয় করতে করণীয় সবই করছে। গত কয়েক দিন আগে দিল্লি প্রেস ক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহিড়ি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এই বাঙালি সাংবাদিক ড. ইউনূসকে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে শেখ হাসিনাকে মাঠে নামানোর দিল্লির পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নীতি-নির্ধারক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা দিল্লির এই অপতৎপরতাকে বাংলাদেশবিরোধী সর্বাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরো বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে দিল্লির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এই ধরনের মতবিনিময়ের আয়োজন এবং একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননাকর পদক্ষেপ। সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারগুলোর পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ দিল্লির এই পদক্ষেপকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমার দেশকে বলেন, ভারত শুরু থেকেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তারা শেখ হাসিনাকে দিয়ে নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ব্যাংককে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শেখ হাসিনাকে থামানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন সামাজিক মাধ্যম ভরত সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না বলে অজুহাত দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখন দেখতে পেলাম গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেখানে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য রেকর্ড করে তা প্রচারের মাধ্যমে দিল্লি প্রমাণ করেছে তারা বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, তারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য এমন একটি সময় বেছে নিয়েছে যখন বাংলাদেশ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণে অগ্রসর হচ্ছে। দিল্লির এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকার, রাজনৈতিক দল ও দেশের সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী দিল্লির এই তৎপরতার ব্যাপারে আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলার পাশাপাশি নির্বাচন ভণ্ডুলের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় ভারত সরকার। তিনি বলেন, ভারতের নীতি-নির্ধারকরা বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েছে। বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে সমান সমান লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছে তারা। আমরা দেখেছি বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হলে আগামী নির্বাচনে জামায়াত জিতে আসতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খবর তাদের আরো বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা এখন চাইছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হোক। এ জন্য হাসিনাকে তারা সরাসরি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, দিল্লির মূল উদ্দেশ্য হলোÑনির্বাচনকে ভণ্ডুল করে দেওয়া। এটা হলে তাদের মূল উদ্দেশ্য হাসিল হবে। ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিতÑসোচ্চার হওয়া। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া ভারতে এক অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচারের কঠোর সমালোচনা করছেন। ভারত গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী ছিল এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনো রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

শেখ হাসিনার অডিও প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো লেখেন, গত শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। ইন্ডিয়ান সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, যা আমাদের সার্বভৌমত্বে বিজেপি সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে এবং ইতোমধ্যেই অবনতিশীল সম্পর্কটি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের বিরোধের মূল বিষয় হলো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। শীর্ষ অপরাধীদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে! তাদের অনেকেই প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, আর ইন্ডিয়াও তা অবারিতভাবে হতে দিয়েছে ও দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ৬৬ বছর আগে দালাইলামাকে আশ্রয় দিয়ে গণচীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ইন্ডিয়া আজও যে মূল্য দিচ্ছে, তা থেকে তারা কোনো শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয় না। শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতিও দেশটিকে আরো বড় মূল্য দিতে বাধ্য করবে বলে আশঙ্কা করছি।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: dailyamardesh.com

Back to top button