জামায়াত কর্মীকে মেরে ফেলল বিএনপি, আহত ৬

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির হামলায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৫২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের ছেলে।
আহত ব্যক্তিদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রবিবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াত কর্মী সুটিয়া গ্রামের মাহদি হাসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাহদি হাসানকে সুটিয়া গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের পর হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ঘটনার পরই হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।
জীবননগর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে হামলা চালিয়েছে ইরান
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedailycampus.com

