‘হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক বলেছেন, ‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে যদি কোনো অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, তাহলে হয় আমরা মারব, নয় আমরা মরব। হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।’
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রামের সিটি কলেজে গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াল লিখনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে এসব কথা বলেন ওমর ফারুক। বিক্ষোভ মিছিলটি জিয়া মোড় থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
তিনি আরও বলেন, গুপ্ত শিবির ভাইদেরকে বলতে চাই—আপনারা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন, আমরা আপনাদের সাথে আছি। কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে, নারীদের নিয়ে, তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে যদি কেউ রঙ-তামাশা করেন, তার অস্তিত্ব এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থাকতে দেবে না, দেবে না। কেউ যদি কোনো অন্যায় করে, আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না; আইনের কাছে সোপর্দ করবেন।তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই; আমরা পিতার আদেশ যদি না শুনি, মা যদি ঘর থেকে বের হতে না বলে, আমরা মায়ের আদেশ অমান্য করে ঘর থেকে বের হয়েছিলাম হাসিনার পতন ঘটানোর জন্য, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘বর্তমান গুপ্ত বাহিনীকে সেই ১৪-১৫ সালের পরে শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েই না, বরং সারা বাংলাদেশে কোথাও পাইনি। পরবর্তীতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্নভাবে হল দখলের চেষ্টা করছে, নামে-বেনামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠেছে। সবই একই গুপ্ত, এই গুপ্তদের প্রতিরোধ আমরা করবোই করব।
তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি আমাদের গুপ্তদের বিরুদ্ধে অবস্থান থাকতে হবে। শিবিরের ভাইদের বলব, আপনারা ওপেন রাজনীতি করেন। আপনারা গুপ্তের মতো আর রাজনীতি করবেন না। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুপ্ত পরিচয়ে নামে বেনামে বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি সেক্রেটারি হয়েছেন তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, আপনারা সতর্ক হয়ে যান। আমি প্রক্টর স্যারকে চিঠি দিয়েছি, ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে উলটাপালটা মন্তব্য যারা করে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন, কালকে থেকে ছাত্রদল ব্যবস্থা নিবে।
ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ করে সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আপনারা ওপেন রাজনীতি করেন, গুপ্ত পরিচয়ে রাজনীতি করবেন না। আপনাদের কর্মীদের থামান, নয়তো কালকে থেকে পরিস্থিতি খারাপ হবে। প্রক্টর স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রক্টর ও ভিসি স্যার ব্যবস্থা না নিলে কালকে থেকে ছাত্রদল ব্যবস্থা নেবে।
মিছিলে তারা ‘লুঙ্গির নিচে রাজাকার, লুঙ্গির মালিক স্বৈরাচার,’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার,’, ‘গুপ্ত শিবিরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশান,’, ‘শিবিরের আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও,’, ‘জমায়াত-শিবির, গুপ্ত গুপ্ত,’, ‘লীগ গেছে যে পথে, শিবির যাবে সেই পথে’, ‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-শিবির, একসাথে চলে না,’, ‘শিক্ষা-গুপ্ত, একসাথে চলে না,’, ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান’, ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু দাউদ, আনোয়ারুল ইসলাম, আহসান হাবিব, সদস্য রাফিজ আহমেদ, নুর উদ্দিনসহ প্রায় দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedhakadiary.com

