Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

পিছনে তাকালেই গুলি, যেভাবে অন্ধকারে পুশইন করে বিএসএফ

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

পোল্যান্ড–বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থীদের বারবার পুশব্যাকের ঘটনা নিয়ে নির্মিত বাস্তবধর্মী ও আবেগঘন চলচ্চিত্র অনেকের হাততালি কুড়িয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের পুশইনের ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। হতভাগ্য সোনালী খাতুন ও সুইটি বিবিদের জীবনের এক বছর চৌদ্দ দিনের কাহিনি কোনো অংশেই কম মর্মস্পর্শী বা হৃদয়বিদারক নয়। এই ঘটনা গোটা ভারত এবং বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেয়।

২০-২১ বছর ধরে দিল্লির রোহিনী পল্লিতে থেকে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সোনালী খাতুন ও সুইটি বিবিদের পরিবার। কিন্তু গত বছরের ২৪ জুন নেমে আসে সেই ভয়ঙ্কর দিন। রোহিনী পল্লি থেকে দানেশ শেখ ও সুইটি বিবিদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। তাদের সব প্রয়োজনীয় নথি আগেই হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা সোনালীর ডাক্তারি কাগজপত্র ও মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। হুমকি দেওয়া হয়, কথা না শুনলে সোনালীকে আলাদা করে পাচার করে দেওয়া হবে।

দানেশ শেখ বলেন, পুলিশ তার কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিল। দানেশ জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে ২৫-৩০ হাজার টাকা আছে, কারণ গ্রামের বাড়ি পাইকর থেকে কোরবানি সেরে সদ্য ফিরেছেন। পুলিশ দানেশের কর্মস্থলের ম্যানেজার, এলাকার সাফাইকর্মী কারও কথাই শোনেনি। সবাই তাদের হয়ে অনুরোধ করেছিল, ছেড়ে দিন, তারা গরিব মানুষ। আম্বেদকর মেডিক্যাল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করার পর আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে জানায়, তারা বাংলাদেশি এবং কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি।

২৬ জুন তাদেরসহ মোট ৭০ জনকে বিমানবন্দর থেকে আসামের ধুবড়ির কাছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে বাংলাদেশিদের হাতে বাংলাদেশি মুদ্রা দেওয়া হয়। দানেশ শেখদের সঙ্গে দুজন বাংলাদেশি ছিল। একজন একটি পোস্টের কাছে নেমে যায়। আরেকজন দালাল-গোছের লোক গাড়ি থেকে তাদের মাঝপথে নামিয়ে দেয়। সেখানে বিএসএফ তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বলে। দানেশ জানান, তখন রাত বারোটা না একটা, তা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। বর্ষাকাল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। হঠাৎ আমাদের ছয়জনকে বিএসএফের একজন বললেন, সামনে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে সরাসরি চলে যাবি। পিছনে তাকালে গুলি করে দেব। ছেলে-বউ নিয়ে আমরা তাদের হাতে-পায়ে ধরে কাঁদতে থাকলাম, কিন্তু তারা শুনল না। তারা বলল, সামনের জঙ্গলে বাঘমারা আসে, ওরা জানতে পারলে বিপদে পড়বি, কাঁদিস না।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: dailyamardesh.com

Leave a Reply

Back to top button