তিন দিন পর মিলেছিল শহীদ রাব্বির লাশ, জানাজায়ও হানা পুলিশের

রাজধানীর ক্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকরাম খান রাব্বির (২৮) শাহাদতের দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। সেদিন বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের একটি শোরুমে চাকরি করতেন। সেই আয়ের অর্থ দিয়েই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের খাবার কিনে দিতেন তিনি। কিন্তু আন্দোলনের মিছিলে থাকাবস্থায় পুলিশের ছোড়া একটি গুলি থামিয়ে দেয় তার জীবন। থেমে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও নির্ভরতার গল্পও। আমার দেশকে এসব কথা জানান রাব্বির বাবা ফারুক খান।
তিনি বলেন, সে নিয়মিত আন্দোলনে যেত। অফিস শেষে ছুটে যেত মিছিলে। নিজের টাকায় আন্দোলনে থাকা ছেলেমেয়েদের খাবার কিনে দিত। ওর ভেতরে যে দেশপ্রেম ছিল, এ দেশ যদি তা বুঝত, তাহলে হয়তো গুলি ছোড়ার আগে একবার ভাবত। কিন্তু তারা ভাবেনি।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। জুমার নামাজের পর কাফরুল থানার পূর্ব বাইশটেকের বাসা থেকে বের হন রাব্বি। উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া। মা বিউটি আক্তার জানান, সেদিন ছেলের আচরণ ছিল অন্যরকম। বের হওয়ার সময় বারবার বলছিল, ‘আম্মু, দরজাটা লাগিয়ে দাও।’ আমি তখন বিষয়টি বুঝিনি। এখন মনে হয়, ওর চোখে ছিল শেষবার দেখার ব্যাকুলতা।
বন্ধুদের সঙ্গে মিরপুর-১০ এলাকায় পৌঁছে আন্দোলনে যোগ দেন রাব্বি। তখন এলাকাটি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। শেখ হাসিনা ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেটসেবা বন্ধ করে দেয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বর্বরোচিত হামলায় আন্দোলনরত শতাধিক ছাত্র-জনতা সেদিন সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। এসব দেখেও বাসায় ফিরে যাননি রাব্বি। আন্দোলনস্থলেই ছিলেন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে। বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে শহীদ আবু তালেব স্কুলের সামনে রাব্বির বুক ও পেটে গুলি লাগে। কিছুক্ষণ পর রাব্বির এক বন্ধু বাবা ফারুক খানকে ফোন করে জানান, রাব্বির শরীরে গুলি লেগেছে। তাকে মিরপুর-১১-এর ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
ফারুক খান বলেন, তখন আমি বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে যেতে থাকি। সে সময় তার বন্ধু আবার আমাকে ফোন করে জানায়, এই হাসপাতালে রাব্বিকে চিকিৎসা দেবে না। তাই ওকে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, আপনি ঢাকা মেডিকেলে আসেন। আমি অনেক কষ্ট করে ঢাকা মেডিকেলে যাই।
ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছে ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফারুক খান। বলেন, সেখানে পৌঁছানোর পর আমার চোখে পড়ে, রক্তে ভেজা গেঞ্জি গায়ে হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে আছে কলিজার টুকরা ছেলের নিথর দেহ। আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। আল্লাহ তাকে শাহাদতের মৃত্যু দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
source: Daily Amar Desh

